ভিক্ষুকদের ফ্রিতেই গরুর মাংস দিয়ে ভাত খাওয়ায় এই হোটেল
পুঠিয়ায় হোটেল মালিকের মহানুভবতায় ফ্রিতে মিলছে ভিক্ষুকদের দুপুরের খাবার। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এমন এক ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন করেছেন উপজেলা সদরের সোনার বাংলা হোটেলে মালিক বাবুল মিয়া।
শুক্রবার হলেই যেন রাজশাহীর পুঠিয়ার আশপাশের ভিক্ষুকদের মাঝে এক অন্যরকম অনুভূতি দেখা যায়। দুপুর ১২টার পর থেকে এসব ভিক্ষুকদের মিলন মেলায় পরিণত হয় সোনার বাংলা হোটেলটি। এ বছরের জানুয়ারি থেকে বাবুল মিয়ার হোটেলে সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার ফ্রিতে দুপুরের খাবার মিলে। বর্তমানে এ খাবার খেতে উপজেলার আশেপাশের ভিক্ষুকরা ভিড় জমায় তার হোটেলে।
ওই উপজেলাসহ আশেপাশের এলাকায় প্রথম কোনো হোটেল থেকে ভিক্ষুকদের ফ্রিতে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। হোটেল মালিক বাবুল মিয়া পুঠিয়া পৌরসভার রামজিবপুর ওয়ার্ডের নুরুজ্জামান ছেলে। তার বাবাও একজন প্রতিষ্ঠিত হোটেল ব্যবসায়ী ছিলেন।
তার এ কাজে সহযোগিতা করে হোটেলের কর্মচারী ও তার ছেলেরা। রোজায় হোটেল বন্ধ থাকায় এ কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ ছিলো। বর্তমানে হোটেল খোলায় তার এ কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে বলে হোটেল মালিক বাবুল মিয়া জানান। শুক্রবার তার হোটেলে গিয়ে দেখা যায় হোটেলের সব সিট পরিপূর্ণ হয়ে বসে আছে নিম্ন আয়ের এসব মানুষগুলো। কিছুক্ষণ পর সবার টেবিলে খাবার দেয়া শুরু হয়। সবাইকে গরুর গোস্ত দিয়ে ভাত দেয়া হচ্ছে। যারা গরুর গোস্ত খায় না তাদেরকে ডিম দিয়ে পেটপুরে খাবার খেয়ে বিদায় দেয়া হচ্ছে। বিদায়ের সময় যে যেভাবে পারেন দোয়া করছেন।
হোটেল মালিক বাবুল মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমি হোটেল ব্যবসা শুরু করেছি প্রায় দুই দশক আগে। এরপর থেকে মাঝে মধ্যে নিম্ন আয়ের মানুষেরা আমার হোটেলে খাবারের জন্য আসলে তাদেরকে আমি যথা সম্ভব খাবার দিয়ে সহযোগিতা করতাম। সেসময় থেকেই আমার এ ধরনের ইচ্ছা ছিলো। বিভিন্ন কারণে তা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে আল্লাহর রহমতে আমার সে সক্ষমতা হওয়ায় আমি এটা করতে পারছি। তাছাড়া রিজিকের মালিক মহান আল্লাহ।