জনশূন্য চট্টগ্রাম
করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত আটদিনের সর্বাত্মক লকডাউনের প্রথমদিন চট্টগ্রাম নগরজুড়ে দেখা গেছে আদেশ পালনের প্রবণতা। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না কেউ। কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশও।
বুধবার সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, লকডাউন শতভাগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে মুভমেন্ট পাসসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে যেতে দেয়া হচ্ছে গন্তব্যে। অন্যথায় ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে উল্টোপথে। নেয়া হচ্ছে আইনি ব্যবস্থাও।
নগরীর আকবরশাহ মোড় এলাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট জলিল মিয়া বলেন, সরকার ঘোষিত আটদিনের লকডাউন শতভাগ বাস্তবায়নে কাজ করছে পুলিশ। প্রতিটি যানবাহন থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত কেউ বের হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এর আগে সর্বাত্মক লকডাউন সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে আটদিনের বিধি-নিষেধমূলক দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
এতে বলা হয়, ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ২১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত সব সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত অফিস এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এছাড়া বন্ধ থাকবে শপিংমল।
অন্যদিকে, কাঁচাবাজারে কেনাবেচা হবে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত। হোটেল-রেস্তোরাঁ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শুধুমাত্র খাবার বিক্রি ও সরবরাহ করতে পারবে। এ সময় অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে টিকা কার্ড দেখিয়ে টিকা নিতে যাওয়া যাবে।
এছাড়া বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থল বন্দর এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিসগুলো নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। আইন-শৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন: কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর (স্থল, নদী ও সমদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম, বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন নিষেধাজ্ঞার আওতা বহির্ভূত থাকবে।
অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কেবল খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ করা যাবে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।
এদিকে, কন্টেনার ও খাদ্যবাহী ট্রেনের পাশাপাশি বুধবার থেকে চট্টগ্রামে চালু হয়েছে বিশেষ পার্সেল ট্রেন। বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম ছেড়ে ট্রেনটি সরিষাবাড়ী পৌঁছবে ভোর সাড়ে ৪টায়। ভোর সাড়ে ৫টায় একটি ট্রেন সরিষাবাড়ী ছেড়ে চট্টগ্রাম পৌঁছবে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে।
এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সরিষাবাড়ী ও চট্টগ্রাম-সিলেটের মধ্যে পরিবাহিত পার্সেল মালামাল ভৈরববাজার ও আখাউড়া স্টেশনে ল্যাগেজ ভ্যান সংযোজন/বিয়োজনের মাধ্যমে গন্তব্যে প্রেরণে চলাচল করবে আরো একটি ট্রেন।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা স্নেহাশীষ দাশগুপ্ত জানান, চট্টগ্রাম থেকে ৭-৮টি কন্টেইনার ও খাদ্যবাহী ট্রেন চালু রয়েছে। এসবের পাশাপাশি বুধবার থেকে পার্সেল ট্রেন চালু করা হয়েছে। কৃষি পণ্যও পরিবহন করবে ট্রেনটি।