সালথায় ৩৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার
দুইদিন পরই ২১ ফেব্রুয়ারি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের এইদিনে ভাষা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে প্রাণ দিয়েছিলেন সালাম, বরকত, রফিক, শফিক, জব্বাররা। প্রতি বছর দিনতে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সারাদেশের মতো ফরিদপুরের সালথা উপজেলা প্রশাসনও নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আয়োজন করা হচ্ছে বইমেলারও। তবে এবার ভষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারবে না সালথার ৩৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এসব প্রতিষ্ঠানে নেই কোনো শহীদ মিনার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সালথা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৩৩টি বিদ্যালয়ে প্রতি বছর কলাগাছ, কাপড়, বাঁশের কঞ্চি ও রঙ্গিন কাগজ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার বানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়। শহীদ মিনার না থাকায় দিবসটির অন্যান্য কর্মসূচিও ঠিকমতো পালন করা হয় না এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।
১৯৩১ সালে স্থাপিত সালথা মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৭৬টি। এরমধ্যে ২০টিতে নেই শহীদ মিনার। এছাড়া মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও ইবতেদায়ী মিলিয়ে রয়েছে মোট ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে ১৩টিতে নেই শহীদ মিনার। শিগগিরই এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি জানান শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
সালথা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল খায়ের বলেন, যেসব মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনো শহীদ মিনার নির্মিত হয়নি আমরা সেসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে কথা বলেছি। তারা দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নিয়ামত হোসেন বলেন, শহীদ মিনার নেই এমন প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর তালিকা করা হচ্ছে। দ্রত এসব শহীদ মিনারে নির্মাণের পদক্ষেপ নেয়া হবে।
সালথার ইউএনও মোহাম্মাদ হাসিব সরকার বলেন, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। করোনাভাইরাসের কারণে তা সফল হয়নি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে।