ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

মৌলভীবাজারে সড়কে ঝরল মুখপোড়া হনুমানের প্রাণ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:০১, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১
মৌলভীবাজারে সড়কে ঝরল মুখপোড়া হনুমানের প্রাণ
গাড়িচাপায় মারা যাওয়া হনুমান

প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরছে মানুষের প্রাণ। এবার গাড়ির চাপায় সড়কে ঝরল মুখপোড়া এক হনুমানের প্রাণ।মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে মাগুরছড়া গ্যাস ফিল্ডের পাশে গাড়িচাপায় ওই হনুমানটি মারা যায়। শনিবার বিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জির বাসিন্দা সাজু মারছিয়াং জানান, মাগুরছড়া গ্যাস ফিল্ড এলাকায় দ্রুতগামী গাড়ির চাপায় হনুমানটি মারা গেছে।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের লাউযাছড়া বনবিট কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মৃত হনুমানটিকে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। তবে চাপা দেওয়া গাড়ি চিহ্নিত করা যায়নি।

বানর গবেষক তানভির আহমেদ বানরটি সম্পর্কে জানান, সবুজ বনের উঁচু গাছের ডালে ডালে ঘোরাঘুরি করে মুখপোড়া হনুমান। চলাফেরা, খাবার সংগ্রহ, ঘুম, খেলাধুলা, বিশ্রাম, প্রজনন সবকিছু গাছেই সম্পন্ন করে। সচারাচর দলের সঙ্গে ঘুরে বেড়ায়। দলে থাকা শক্তিশালী পুরুষ দলের নেতা। এরা মুখপোড়া হনুমান বা লাল হনুমান নামেই পরিচিত। মহাবিপন্ন প্রাণীদের একটি লাল হনুমান। এরা খুব শান্তিপ্রিয় প্রাণী।

তিনি জানান, এ প্রাণীদের একেকটি দলে সচরাচর দুই থেকে ১৪টি প্রাণী থাকে। মহাবিপন্ন প্রজাতির প্রাণী তাই খুব একটা দেখা যায় না। মুখপোড়া হনুমান বা লাল হনুমানকে সাধারণত মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, আদমপুর বিট ও রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে দেখা যায়। তা ছাড়া সিলেট এবং চট্টগ্রামে চির সবুজ বনে দেখা যায়। এরা সাধারণত দিনের বেলায় বের হয়।

মুখপোড়া হনুমানের লোমবিহীন মুখমণ্ডল, কান, হাত ও পায়ের পাতা কালো। মাথার চূড়া ও লেজের আগাও কালো। পিঠ ও দেহের ওপরের লোম গাঢ় ধূসর-বাদামি এবং বুক-পেট ও দেহের নিচ লালচে-বাদামি বা সোনালি। মাথার পেছনে লোম এমনভাবে মাথা ঢেকে রেখেছে দেখে মনে হবে যেন টুপি পরে আছে।

এদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে ফুল, ফল ও কচি পাতা। তবে আমড়া, আমলকি, হরিতকি, বহেড়া ইত্যাদি ফলও বেশ পছন্দ। মার্চ–জুলাই মাসে এরা প্রজনন সম্পন্ন করে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!