চার স্ত্রীর রহস্যজনক আত্মহত্যা, অবশেষে স্বামী গ্রেফতার
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্ত্রীর রহস্যজনক আত্মহত্যার পর চতুর্থ স্ত্রীকে আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগে অবশেষে সেই আলোচিত ভণ্ড প্রেমিক-স্বামী রবিউল আলমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার দুপুরে কুমারখালীর হলবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। রবিউল ওই উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কল্যাণপুরের শাজাহান প্রামাণিকের ছেলে।
এর আগে, শনিবার চতুর্থ স্ত্রী মৌসুমি আক্তারের বাবা শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, রবিউল আলম দুই বছর আগে কলেজ পড়ুয়া মৌসুমি খাতুনকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই মৌসুমিকে যৌতুকের দাবিতে চাপ প্রয়োগ ও শারীরিক-মানসিকভাবে নির্যাতন করত রবিউল, তার মা ভানু খাতুন, চাচা আহমদ আলী রেনু ও বোন শাহিদা খাতুন। ৩০ ডিসেম্বর বিকেলে নিজ ঘরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেন মৌসুমি।
কুমারখালী থানার ওসি মজিবুর রহমান বলেন, রবিউল আলমসহ চার জনের বিরুদ্ধে আইনে মামলা হয়েছে। রবিউলকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
জানা গেছে, ১৬ বছর আগে প্রথম বিয়ে করেন রবিউল আলম। রবিউলের প্রথম স্ত্রী জোছনা আক্তার এক সন্তান রেখে আত্মহত্যা করেন, দ্বিতীয় স্ত্রী মনিরা বেগম সন্তান সম্ভবা অবস্থায় আত্মহত্যা করেন। দুই বছর আগে চতুর্থ বিয়ে করে মৌসুমিকে ঘরে তোলেন। এরই মধ্যে গোপনে রাজিয়া সুলতানা নামে আরেক তরুণীকে বিয়ে করে শহরে বসবাস করছেন রবিউল। তিনি তার পঞ্চম স্ত্রী। রবিউল পঞ্চম বিয়ে করে আলাদা থাকা শুরু করলে চতুর্থ স্ত্রী মৌসুমি এক সন্তানকে রেখে আত্মহত্যা করেন। এরপর পালিয়ে যান রবিউল। ধারণা করা হয়েছিল- তিনি পঞ্চম স্ত্রীর সঙ্গেই রয়েছেন।