ঢাকা,  শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

১৫ ফুটের শিকলে কেটে গেল ১২ বছর

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:০০, ৩ জানুয়ারি ২০২১
১৫ ফুটের শিকলে কেটে গেল ১২ বছর
ওবায়দুর রহমান হাওলাদার

১৮ বছর বয়সী ওবায়দুর রহমান হাওলাদার। তার ডান পায়ে শিকল দিয়ে গাছের সঙ্গে বাঁধা। রাতে ঘরে খাটের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। ১৫ ফুটের শিকলে এভাবেই এক যুগ কেটে গেল তার।

ওবায়দুর শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরজুশিরগাঁও গ্রামের আব্দুল গণি হাওলাদারের ছেলে।

চরজুশিরগাঁও গ্রামে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির পূর্ব পাশে মেহগনি গাছের সঙ্গে শিকলবন্দি অবস্থায় প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে আছেন ওবায়দুর। মানসিক প্রতিবন্ধী ওবায়দুরের কাছে যে কেউ গেলেই বলে ওঠে- আমি ওবায়দুর।

ওবায়দুরের বৃদ্ধ মা ওরফুন্নেছা বেগম জানান, তিন ছেলে ও চার মেয়ের মধ্যে ওবায়দুর সবার ছোট। জন্মের কিছুদিন পর ওবায়দুর হঠাৎ প্রতিবন্ধীর মতো হয়ে পড়ে। স্থানীয় চিকিৎসক ও কবিরাজ দিয়ে তাকে চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু সুস্থ হয়নি। ক্রমান্বয়ে মানসিক প্রতিবন্ধী হয়ে পড়ে ওবায়দুর। সুযোগ পেলেই এদিক-সেদিক চলে যায়। এজন্য ৭ বছর বয়স থেকে বাধ্য হয়ে পায়ে শিকল পরিয়ে তাকে আটকে রাখা হয়।

তিনি আরো জানান, বড় দুই ছেলে বিয়ে করে আলাদা সংসার করছে। ওবায়দুরকে নিয়ে কষ্টে দিন পার করছেন। মায়ের হাতে ছাড়া সে খাবার খায় না।

বছর দেড়েক আগে একটি ভাতা কার্ড পেয়েছে ওবায়দুর। ইদিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুরুল হক ঘরামী বলেন, প্রতি মাসে ৭৫০ টাকা ভাতা পান ওবায়দুর। সেই টাকা দিয়ে তার খাবারের ব্যবস্থা করে তার মা।

প্রতিবেশী দেলোয়ার ঢালী বলেন, ওবায়দুর ও তার মা একসঙ্গে থাকেন। তারা অসহায়। যা ভাতা দেয়া হয়, এতে চলে না। অর্থের অভাবে তার চিকিৎসাও হয়নি। চিকিৎসা করাতে পারলে সুস্থ হয়ে উঠবে ওবায়দুর।

গোসাইরহাটের ইউএনও মো. আলমগীর হুসাইন বলেন, ওবায়দুরের শিকলবন্দি জীবনের কথা শুনেছি। সমাজসেবা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে তার চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআর
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!