হত্যার আগেই ভাইয়ের লাশের জন্য ৬ ফুট গর্ত খুঁড়ে রাখেন শাহিনুর
মৌলভীবাজারের আলোচিত ব্যবসায়ী আব্দুল মনাফ এর চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্যজট খুলতে শুরু করেছে। আর এই হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থানা পুলিশ।
জানা গেছে, ব্যবসায়িক কোনো বিরোধ নয়, পারিবারিক বিরোধের জেরেই ব্যবসায়ী আব্দুল মনাফকে হত্যা করে স্বজনরা। হত্যার বিষয়টি ঘাতক স্বজনদের ছিল পূর্ব পরিকল্পিত। সম্পত্তি নিয়ে চাচাতো ভাইদের সাথে দীর্ঘ বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই আজির উদ্দিন ঘটনার সাথে জড়িত সাতজনকে অভিযুক্ত করে বুধবার সকালে কুলাউড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জড়িত ছয়জনকে গ্রেফতার করে বুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ভূকশিমইল ইউনিয়নের মীরশংকর গ্রামের মৃত মাহমুদ আলীর ছেলে ও নিহত মনাফের চাচাতো ভাই শাহিনুর রহমান শাহিদ, সামছুদ্দিন, আতিকুর রহমান চান মিয়া, মো. ফজলু মিয়া, ফজলু মিয়ার ছেলে ফয়েজ আহমদ, জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়াও পলাতক রয়েছেন মাহমুদ আলীর ছেলে সামছুর রহমান।

আসামির বর্ণনায় জানা যায়, মানাফ বাড়ি ফেরার পথে তার বাড়ির পাশে ওৎ পেতে থাকেন তার চাচাতো ভাই শাহিনুর রহমান ও তার সহযোগীরা। রাত ১০টার দিকে মানাফ সেখানে পৌঁছলে লোহার পাইপ ও লাঠি দিয়ে তার মাথায় এলোপাতাড়িভাবে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর আসামিগণ লাশ শাহিনুর রহমানের ঘরের পেছনে আগে থেকেই খুঁড়ে রাখা ৬ ফুট গর্তে পুঁতে রাখে। শাহিনুর রহমানের দেয়া তথ্যমতে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় সেখান থেকে গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে লাশটি মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কুলাউড়া থানার ওসি বিনয় ভূষণ রায় বলেন, সম্পত্তির বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ডটি হয়েছে। এ ঘটনায় সাতজনকে অভিযুক্ত করে নিহত মনাফের ভাই আজির উদ্দিন একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মূল আসামিদের গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এর আগে, ১২ ডিসেম্বর নিখোঁজ হন আবদুল মনাফ। নিখোঁজের পরদিন কুলাউড়া থানায় জিডি করেন মনাফের বড় ভাই আজির উদ্দিন। এরপর তদন্ত শুরু করে পুলিশ।