‘আসেন নিয়ে যান, অল্প দামে বড় ইলিশ’
‘আসেন নিয়ে যান, অল্প দামে বড় ইলিশ মাছ। এদিকে আসেন, এখানে ভাল মাছ। আসেন নিয়ে যান।’
বাগেরহাট শহরের দড়াটানা নদীর পাশে অবস্থিত ইলিশ ও সাগরের পাইকারী আড়ত কেবি বাজারে ইলিশ বিক্রির জন্য এভাবেই হাঁকডাক দিচ্ছিলেন আড়তদাররা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাজারে মানুষের ভিড়। কেউ মাছ দেখছেন, কেউ কিনছেন, কেউ আবার দাম বলে চলে যাচ্ছেন। কেউ বিভিন্ন পরিবহনে মাছ উঠাচ্ছেন, কেউ আবার ঝুড়িতে বরফ দিয়ে মাছ সাজাচ্ছেন। আর দড়াটানা নদীতে রাখা ট্রলার থেকে ঝুড়ি ও ঝাকায় করে রুপালি ইলিশ নিয়ে নির্দিষ্ট আড়ত ঘরের সামনে রাখছেন বিক্রির জন্য। সবাই ব্যস্ত এই মাছের বাজারে।
গত তিন-চারদিন ধরেই কেবি বাজারে ইলিশের আমদানি অনেক বেশি। দাম ও বিক্রি দুটিই ভাল। যার ফলে খুশি ক্রেতা, বিক্রেতা, ব্যবসায়ী ও জেলেরা।

কেবি বাজারে মাছ বিক্রি করতে আসা জেলে ননী গোপাল বলেন, এবার সাগরে ভাল মাছ পেয়েছি। মাছের আকারও বড়। তাই দামও মোটামুটি ভাল পেয়েছি। তবে বেশির ভাগ মাছের পেটে ডিম রয়েছে।
মাছ ব্যবসায়ী লতিফ খান বলেন, এবার মাছের চেহারা ও ওজন দুটোই আগের তুলনায় অনেক ভালো। দুই তিন দিন ধরে ১ কেজি ওজনের মাছ ৬শ থেকে ৮শ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের মাছ বিক্রি হয়েছে ৩শ থেকে ৪শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সুমন হাওলাদার, রিয়াদ হোসেনসহ কয়েকজন মাছ ক্রেতা বলেন, বাজারে আসছি। মাছ দেখে কিনেছি।
একজন মাছ ব্যবসায়ী বলেন, বাজারে অনেক ভিড়। দাঁড়িয়ে থাকাই দায়।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. খালেদ কনক বলেন, ইলিশ রক্ষার জন্য সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। এসব কারণে ঝাটকা নিধন রোধে একাধিক অভিযানও করেছি। মাছ আহরণে নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের সহায়তাও করা হয়েছে। যার ফলে ইলিশের আকার ও পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে সাগর ও নদীতে।
স্বাস্থ্য বিধির বিষয়ে ড. মো. খালেদ কনক বলেন, করোনাকালীন সময়ে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে মাইকিং করেছি। বাজার সমিতির দায়িত্বশীলদের সঙ্গে সভা করেছি। স্বাস্থ্য বিধির গুরুত্ব বুঝিয়েছি জেলেদের। এ বিষয়ে আরো কঠোর হওয়ার চেষ্টা করছি।