ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

বস্তা না খুলে চাল চুরি, ধরা পড়লেন খাদ্য কর্মকর্তা!

বরগুনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:২১, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
বস্তা না খুলে চাল চুরি, ধরা পড়লেন খাদ্য কর্মকর্তা!
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে বরগুনার আমতলী খাদ্য গুদামে বস্তা না খুলে অভিনব কায়দায় চাল চুরির ঘটনা ঘটছিলো। অবশেষে সেই চাল চুরির রহস্য উন্মোচন হয়েছে। এতে জড়িত রয়েছেন ওই খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা বরীন্দ্রনাথ ও কিছু শ্রমিক। খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক পরিদর্শনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান। তদন্ত কমিটি করে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, সংরক্ষিত খাদ্য গুদামের মধ্যে বস্তা না খুলে অভিনব কৌশলে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে চাল। প্রতিটি বস্তা থেকে ৪ থেকে ৫ কেজি চাল চুরি করছেন আমতলী গুদামের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা রবীন্দ্রনাথ ও কিছু শ্রমিক।

সম্প্রতি এ চাল চুরির ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ভিডিও দেখে আসেন খাদ্য অধিদফতরে মহাপরিচালক। এমন খবর পেয়ে চুরি করা বস্তায় শ্রমিকদের মাধ্যমে আবার চাল ঢুকানোর অপচেষ্টা চালান রবীন্দ্রনাথ।

রাতে খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক সরোয়ার হোসেন গুদামের চাল মাপলে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল, ৫০ কেজির বস্তায় চাল মেলে ৪৫ বা ৪৬ কেজি। এরপরই তদন্ত কমিটি ও সিলগালা করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

গুদাম পরিদর্শন শেষে মহাপরিচালক পটুয়াখালী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. লিয়াকত হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। শনিবার তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছেন। তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন পটুয়াখালী সদর খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিএম সফিকুল ইসলাম ও বরগুনা সদর খাদ্য নিয়ন্ত্রক ধ্রুব মণ্ডল। 

এ ব্যাপারে গুদামের খাদ্য কর্মকর্তা রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে করা হলে ভিডিও ফুটেজ তার গুদামের নয় বলে দাবি করে তিনি বলেন, আমাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানোর জন্য একটি গ্রুপ এ কাজটি করেছে। মহাপরিচালক ওই ফুটেজ মিলিয়ে দেখেছেন। তিনি আরো বলেন, ওই ফুটেজ যদি আমার গুদামের হয়ে থাকে তাহলে আমাকে যে শাস্তি দেয়া হয় সেই শাস্তি মাথা পেতে নেব।   

তদন্ত কমিটির প্রধান পটুয়াখালী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. লিয়াকত হোসেন বলেন, তদন্ত কাজ শুরু করেছি। তদন্তের স্বার্থে আমতলীর চারটি খাদ্য গুদাম সিলগালা করা হয়েছে। দু’এক দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।
 
আমতলীর ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান বলেন, খাদ্য গুদামের ঘটনায় তদন্ত কমিটি কাজ করছে। ওই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. সারোয়ার মাহমুদ বলেন, অনিয়ম তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে চাল চুরির ঘটনা প্রমাণিত  হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!