২৪ ঘণ্টায় লাশ হলেন দুই নারী
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোরে রূপগঞ্জ উপজেলার মাসাবো এলাকায় নিজ ঘর থেকে মমতাজ বেগম নামে এক নারীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী রঞ্জুকে আটক করে পুলিশ।
নিহত মমতাজ বেগম মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গাওদিয়া এলাকার নুরুল ইসলামের মেয়ে। আটক রঞ্জু জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার শরীফের ছেলে। তিনি মমতাজের দ্বিতীয় স্বামী।
জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে তারাব পৌরসভার মাসাব এলাকার মজিবুরের বাড়িতে ভাড়ায় থাকেন মমতাজ বেগম ও রঞ্জু। সোমবার রাত আড়াইটায় পাশের ঘরের আদুরী নামে এক নারী ঘরের জানালা খোলা দেখে উঁকি দিলে মমতাজের হাত-পা বাঁধা গলাকাটা লাশ দেখেন। পরে তিনি পুলিশকে জানান। মঙ্গলবার ভোরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
এদিকে মঙ্গলবার রাত দেড়টায় কায়েতপাড়া ইউপির চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রের ২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বৃষ্টি আক্তার নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আবু বকর, শাশুড়ি নাসিমা বেগম ও ফুফু শাশুড়ি নূর জাহানকে আটক করা হয়। নিহত বৃষ্টি আক্তার চনপাড়ার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাচ্চু মিয়ার মেয়ে।
নিহত বৃষ্টি আক্তারের স্বজনরা জানান, ছয় মাস আগে একই এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে আবু বকরের সঙ্গে বৃষ্টির বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন বৃষ্টির ওপর নির্যাতন করতে শুরু করেন। শ্বশুরবাড়ির লোকজন বৃষ্টিকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রেখেছে বলে অভিযোগ তাদের।
রূপগঞ্জ থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, মমতাজ বেগম হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। নিহতের স্বামী রঞ্জুকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে বৃষ্টির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তার গলায় কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহতের পরিবারের অভিযোগ পেয়ে নিহতের স্বামী, শাশুড়ি ও ফুফু শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে।