সিগারেটের প্যাকেটেই খোঁজ মিলল ‘ধর্ষক-খুনির’
নীলফামারীর সৈয়দপুরের কামারপুকুরে আকলিমা বেগম নামের গৃহবধূকে ধর্ষণের পর হত্যার রহস্য খুঁজে পেয়েছে পুলিশ। ওই গৃহবধূকে হত্যার গলায় রশি বেঁধে তার মরদেহ ফেলে রাখে তিন যুবক। এ ঘটনায় দুই যুবক হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তি আদালতে দিয়েছেন। গ্রেফতাররা হলেন- কামারপুকুর ইউপির কাঙ্গালুপপাড়ার আব্দুল করিমের ছেলে আনারুল ইসলাম ও মতিয়ার রহমানের ছেলে মোহাম্মদ শুভ।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নীলফামারীর এসপি মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান।
এসপি জানান, কামারপুকুর ইউপির কিসামত এলাকার আবেদ আলীর মেয়ে আকলিমা। আট বছর আগে আকলিমার সঙ্গে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের হাবড়া এলাকার শরিফুল ইসলামের বিয়ে হয়। স্বামী পরনারী আসক্ত থাকায় প্রায় সময় সংসারে ঝগড়া হতো। আকলিমাকে প্রায়ই নির্যাতন করতো স্বামী শরিফুল। নির্যাতন সইতে না পেরে বাবার বাড়ি চলে যান আকলিমা। বাবার বাড়িতে এসেও গালমন্দের শিকার হন তিনি। এতে অভিমানে বাবার বাড়িও ত্যাগ করেন আকলিমা।
কিন্তু গত ২৩ আগষ্ট সকালে কামারপুকুর ইউপির কিসামত এলাকা থেকে আকলিমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধারের পাশপাশি ডার্বি ব্যান্ডের সিগারেটের ভেতরের কাগজ উদ্ধার করা হয়। সেই কাগজে লেখা ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়’ও পেন্সিলের টুকরো অংশ নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
এক পর্যায়ে কিসামত এলাকায় ছদ্মবেশ ধারণ করে ডার্বি ব্যান্ডের সিগারেট গ্রহণকারীদের হাতের লেখা যাচাই শুরু হয়। এর মধ্যে চিরকুটটির লেখার সঙ্গে স্থানীয় আনারুলের হাতের লেখা মিলে যায়। তাকে ও শুভকে গ্রেফতার করলে রাতে ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করে তারা। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে আকলিমার গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যা করে বৈদ্যুতিক পুলের নিচে মরদেহ ফেলে যায়।
এসপি আরো জানান, এ ঘটনায় তিনজন জড়িত। দুইজনকে গ্রেফতার করে শুক্রবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি একজনকে গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এসপি মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান আরো জানান, আগেই আকলিমার স্বামী শরিফুলকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তার অত্যাচার তিন সন্তানের মায়ের জীবন মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে।