ড্রাগন চাষে সফল কালীগঞ্জের আব্দুস সামাদ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বাণিজ্যিকভাবে ভিয়েতনামী লাল জাতের ড্রাগন চাষ করে সফলতা পেয়েছেন যুবক আব্দুস সামাদ। তার বাড়ি উপজেলার রায়গ্রাম ইউপির খামারমুন্দিয়া গ্রামে। প্রায় ৬০ শতক জমির এ ড্রাগনের ক্ষেত থেকে এ বছর যাবতীয় খরচ বাদে তার প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকা লাভ আসবে বলে তিনি আশা করেছেন।
জানা যায়, অন্য চাষের চেয়ে এতে লাভ বেশি। ফলে তার দেখাদেখি এলাকার অনেক কৃষক এবং বেকার যুবক বানিজ্যিভাবে এই ড্রাগন ফল চাষে এগিয়ে আসছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সিমেন্টের তৈরি চিকন পিলারের সঙ্গে ঝুলে আছে নানা বয়সী ড্রাগন। নজর কাড়ছে সৌন্দর্য মন্ডিত ড্রাগন ফুলও।
কৃষক আব্দুস সামাদ জানান, ২০১৯ সালের প্রথম দিকে স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৬০ শতক জমি বর্গা নিয়ে চাষ শুরু করেন। শুরুতে মোট ৪শ’ ৬০টি ড্রাগনের চারা রোপন করা হয়। গত দেড় বছরে তিনি বাগানে চারা উৎপাদন, জমি প্রস্তুত, কৃষি শ্রমিকসহ সব মিলিয়ে ৪ লাখ টাকা খরচ করেছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকার ড্রাগন বিক্রি করেছেন।
আগামী ৬ মাসে তার বাগান থেকে আরো প্রায় ৫ লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। ঠিকমত পরিচর্যা করতে পারলে এবং আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে একটি বাগান থেকে কমপক্ষে ১৫ বছর ড্রাগন পাওয়া যায় বলে জানান তিনি।
কৃষক সামাদ আরো জানান, এখন বেশ কিছু কৃষক ও বেকার যুবক এ এলাকাতে বানিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ শুরু করেছেন। তার হাত ধরেই এ এলাকায় প্রথম বিদেশি ফল ড্রাগনের চাষ শুরু হয়। তার বাগানে কয়েকজনের কর্মসংস্থান হয়েছে। আগামীতে আরো কয়েক বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ করবেন বলে প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষক সামাদ।
ফলচাষি সামাদ জানান, ড্রাগন ফলের চাষ একটি লাভজন চাষ। মাত্র দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যেই ড্রাগন বাগান থেকে ফল সংগ্রহ করা সম্ভব। এ জাতের ড্রাগন ফল পাকলে লাল বর্ণের হয়ে যায়। স্বাদও ভালো। ফলে বাজারে এ জাতের
ড্রাগন ফলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ফল বিক্রেতারা তার বাগানে এসে প্রতিকেজি ২শ’থেকে ৩শ’ টাকায় কিনে নিয়ে
যাচ্ছেন।
তিনি আরো জানান, পুষ্টিগুনে ভরা এই ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে এলাকায় যদি ড্রাগন ফল সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকতো তাহলে সারা বছর এই উপজেলা থেকে ড্রাগন ফল সরবরাহ করা সম্ভব হতো।
কালীগঞ্জ উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এমদাদ হোসেন জানান, যুবক সামাদের ড্রাগন বাগানটিতে এবার ব্যাপক ফলন হয়েছে। কৃষি অফিসের তরফ থেকে সার্বিক খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে।