ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:০১, ৬ আগস্ট ২০২০
পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা
নির্যাতনের শিকার জান্নাতুল ফেরদৌস

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার বিকেলে ওই উপজেলার বাড়ান্দী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নির্যাতনের শিকার জান্নাতুল ফেরদৌস একই গ্রামের মির্জাপাড়ার রফিকুল ইসলামের স্ত্রী। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, জীবননগরের বাড়ান্দী গ্রামের মাঠপাড়ার জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদোসকে ১১ বছর আগে বিয়ে করেন একই গ্রামের মির্জাপাড়ার ওয়াজেদ আলী খানের ছেলে রফিকুল ইসলাম। তাদের ৯ বছরের একটু মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে জান্নাতুলকে নির্যাতন করতে থাকেন রফিকুল। মেয়ের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে আট মাস আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান জাহাঙ্গীর আলম। ওই ঘটনায় মামলা হলেও মেয়ে তমার ভবিষ্যতের কথা ভেবে স্বামীর সঙ্গে আপস করেন জান্নাতুল। এরপর থেকে সবকিছু স্বাভাবিক ছিল।

নির্যাতনের শিকার জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, পাঁচ মাস আগে তিনি আবারো অন্তঃসত্ত্বা হন। এরইমধ্যে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন তার স্বামী। এ নিয়ে তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়। বুধবার বিকেলে পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় রফিকুল তার কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক চান। টাকা না দিলে তালাকের হুমকি দেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রফিকুল, তার বাবা ওয়াজেদ ও বন্ধু শওকত আলী মিলে তাকে মারধর শুরু করে। পরে জান্নাতুলকে বাড়ির পাশের একটি মাঠে ফেলে যায়।

জান্নাতুল ফেরদোসের মামা আব্দুস সাত্তার বলেন, রফিকুল আমাদের কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক চেয়েছিল। আরা টাকা দিতে না পারায় সে আমাদের মেয়েকে নির্যাতন ও বিষ দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে।

রায়পুর ইউপি মেম্বার আব্দুল মালেক বলেন, রফিকুলের বিরুদ্ধে এর আগেও পরকীয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার বিকেলে প্রেমিকাসহ তাকে আটক করে পুলিশের কাকছে সোপর্দ করা হয়েছে।

জীবননগর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, রফিকুল ইসলামসহ তিনজনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর মা রোজিনা খাতুন। এ ঘটনায় রফিকুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!