গায়ে আগুন লাগিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা, পরকীয়া প্রেমিক গ্রেফতার
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে পুতুল ও তার দুবছরের কন্যা শিশু আনহার মৃত্যুর জন্য দায়ী পরকীয়া প্রেমিক পিন্টুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পিন্টু ঢাকার কল্যানপুর পোড়া বস্তির সাত্তার মিস্ত্রির পুত্র।
উপজেলার ধল্লা ইউপির ফোর্ডনগর খানপাড়া গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোস্তফা কামাল বলেন, গ্রেফতারকৃত পিন্টুকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে বুধবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে ঢাকার মিরপুর থানা পুলিশের সহায়তা নিয়ে সরকারি বাঙলা কলেজের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়।
৯ মে পুতুলের বাবা মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামিরা হচ্ছে- পিন্টুর ভাই মো. নান্টু, বোন মিনারা বেগম ও চাচা চাঁন মিয়া।
প্রসঙ্গত, পরকীয়া প্রেমের জের ধরে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হলে স্বামী সুমন পুতুল ও কন্যা শিশু আনহাকে নিয়ে ঢাকা ছেড়ে দুমাস আগে সিংগাইর ফোর্ডনগর খানপাড়ায় ভাড়া বাসায় ওঠেন। তারপরও প্রেমিক পিন্টু মোবাইল ফোনে পুতুলকে উত্যক্ত করতে থাকে। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। অতিষ্ঠ হয়ে ৪ মে রাতে স্বামী সুমন ও মেয়েকে ঘুমে রেখে নিজের শয়ন কক্ষে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় আনহা ঘুম থেকে ওঠে মায়ের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লে সেও অগ্নিদগ্ধ হয়। দগ্ধ মা ও সন্তানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হলে ভোরে পুতুলের মৃত্যু হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ মে শিশু আনহাও মারা যায়।