টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে স্কুলছাত্রীর নজির গড়া মানবসেবা
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে সন্তানরা যখন মাকে জঙ্গলে ফেলে যাচ্ছে, ছেলে তার বাবাকে চিনছে না, লাশ দাফনেও পাওয়া যাচ্ছে না স্বজনকে এমন সময় আর্তমানবতায় সেবায় এগিয়ে এসে অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী আনিকা তাসনিম স্নেহা। সে ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে টিফিনের বাঁচানো ও বৃত্তির টাকা দিল উপজেলা ত্রাণ তহবিলে।
আনিকা মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার শ্রীখোল ইউপির টুপিপাড়ার ভাড়াটিয়া ফজলে করিম আরিফের মেয়ে। সে শ্রীপুর এমসি পাইলট স্কুলের ছাত্রী।
এ বিষয়ে আনিকার বাবার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আনিকা ২০১৮ সালে শ্রীপুর সেন্ট্রাল কিন্ডারগার্টেন থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ‘গোল্ডেন এ প্লাস’ পেয়ে উপজেলাতে প্রথম স্থান অর্জন করে। বৃত্তির টাকা প্রথমবার দুই হাজার পেয়েছে। সেই টাকা ও টিফিনের বাঁচানো ৫০০ টাকা মিলেয়ে মোট ২৫০০ টাকা ত্রাণ তহবিলে দান করে।
১২ বছর বয়সী এই স্কুলপড়ুয়া ছাত্রীর মানবসেবায় এগিয়ে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের এমন পরিস্থিতিতে দেশে চাল চোর ও অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে আমার মেয়ের মন কেঁদে ওঠে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে। সে বলে- ‘বাবা আমি আমার বৃত্তি ও টিফিনের গোছানো টাকা দিয়েই মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই’। এতে আমি তার সেন্ট্রাল কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক শিশির কুমার শিকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি শ্রীপুরের ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। পরে যোগাযোগ করি এবং আমার মেয়ে উপস্থিত থেকে বৃহস্পতিবার ইউএনওর হাতে উপজেলা ত্রাণ তহবিলের জন্য ২৫০০ টাকা তুলে দেই।
এ সময় চাল চোর ও অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতি ঘৃণা এবং ধিক্কার জানিয়ে শাস্তি দাবি করে স্কুলছাত্রী আনিকা তাসনিম স্নেহা।
এ বিষয়ে শ্রীপুরের ইউএনও ইয়াছিন করিব বলেন, অসহায়, দুস্থদের পাশে দাঁড়াতে ত্রাণ তহবিলে ২৫০০ টাকা দিয়েছে স্কুলছাত্রী স্নেহা। ছোট হিসেবে তার এ মহৎ উদ্যোগকে উপজেলা প্রশাসন থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।