ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ, লাভবান মেম্বার

পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:৪৫, ২৫ আগস্ট ২০১৯
স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ, লাভবান মেম্বার
প্রতীকী ছবি

কক্সবাজারের পেকুয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ করেছে দুই যুবক। মঙ্গলবার রাতে পেকুয়ার উত্তরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনাটি মেম্বার সাজ্জাদুল ইসলামসহ আরো কয়েকজন মিলে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযুক্ত দুই যুবক হলেন ওই এলাকার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে আরমান উদ্দিন ও মাহমদ আলীর ছেলে মো. খোরশেদ। পুলিশ এ ঘটনায় ভিকটিমকে উদ্ধার করে অভিযুক্ত আরমানের মা কহিনুর আকতারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়েছে।

ধর্ষিতার মা বলেন, ওইদিন রাতের খাবার খেয়ে যখন ঘুমানোর চেষ্টা করছিলাম তখন কান্নাকাটির আওয়াজ পাই। পরে সবাইকে ডেকে তুলি এবং রান্নাঘরে গিয়ে দেখি, আমার মেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছে। পরে সে জানায় আরমান ও খোরশেদ তাকে ধর্ষণ করেছে। 

বুধবার আমরা থানা পুলিশের কাছে যাবার চেষ্টা করলে মেম্বার সাজ্জাদুল ইসলাম ও গ্রাম পুলিশ জসিম ঘটনাটি কাউকে না জানাতে আমাদের চাপ প্রয়োগ করে। পরে তারা দুইজন আমাদের বাড়িতে এসে নগদ ২২ হাজার টাকায় মিমাংসার প্রস্তাব দেয়। টাকাগুলো মেম্বার সাজ্জাদ আমার হাতে গুজে দিলেও আমি তা ফেরত দিয়েছি। তাদের জানিয়েছি, আমার মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার ন্যায্য বিচার আমি চাই।

ধর্ষণে অভিযুক্ত আরমানের ভাই ফারুক বলেন, বিষয়টি মিমাংসার কথা বলে সাজ্জাদ মেম্বার, চৌকিদার জসিম, হারুণসহ আরো কয়েকজন আমাদের কাছে প্রথমে ৩৫ হাজার টাকা নেয়। পরে এ টাকায় কাজ হবে না জানিয়ে আরো ১০ হাজার টাকা আদায় করে তারা। সর্বমোট ৪৫ হাজার টাকার তারা ঘটনাটি মিমাংসা করে দেয়।

পরের দিন পুলিশ জসিম উদ্দিনকে আটক করলে তিনি আসামি ধরিয়ে দেয়ার কথা বলে থানা হেফাজত থেকে চলে আসেন। রোববার জসিম আমার মাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

এ ব্যাপারে মেম্বার সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণের কোনো ঘটনা আমি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করিনি। এ ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছু জানি না।

পেকুয়া থানার ওসি জাকির হোসেন ভূইয়া বলেন, ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের আটকে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!