বাবার দায়ের কোপে ছেলে খুন
শেরপুর সদর উপজেলার চরমোচারিয়ায় শনিবার সকালে পারিবারিক কলহের জেরে বাবার দায়ের কোপে ছেলে শফিকুল ইসলাম নিহত হয়েছেন।
বাবা মুসলিম উদ্দিন চরমোচারিয়া ইউপির মাছপাড়া গ্রামের নয়মুদ্দিন মণ্ডলের ছেলে। তিনি অবসরপ্রাপ্ত কারারক্ষী।
পুলিশ অভিযান চালিয়ে বাবা মুসলিম উদ্দিনসহ তিনজনকে আটক করেছে। আটক অন্য দুজন হলেন মুসলিমের দ্বিতীয় স্ত্রী মলেদা বেগম ও মেয়ে মেরি আক্তার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুসলিম উদ্দিন কারারক্ষীর চাকরি থেকে সম্প্রতি অবসর গ্রহণ করেন। তিনি তিন বিয়ে করেছেন এবং প্রত্যেক স্ত্রীর ঘরেই সন্তান রয়েছে। শফিকুল তার প্রয়াত প্রথম স্ত্রী সবুজা বেগমের সন্তান।
মুসলিম উদ্দিনের চার একর আবাদি জমি ও পেনশনের টাকা নিয়ে অনেক দিন ধরে বাবা-ছেলের সঙ্গে বিবাদ চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার বাবা মুসলিম উদ্দিন ও ছেলে শফিকুল সংঘাতে জড়ায়। শনিবার শফিকুল ধানখেতে আমন ধানের চারা রোপণ করেছিলেন। পাশেই পাটখেতে পাট কাটছিলেন বাবা মুসলিম উদ্দিন।
এ সময় বাবার কাছে দুই একর জমি দাবি করে এবং পেনশনের টাকার ভাগ চান ছেলে। বাবা-ছেলে এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে বাবা উত্তেজিত হয়ে হাতে থাকা দা নিয়ে ছেলের কাছে আসেন। এ সময় ছেলে বাবাকে দেখে নেয়ার হুমকি দিলে উত্তেজিত হয়ে মুসলিম উদ্দিন ছেলের ঘাড়ে দা দিয়ে কোপ দেন। প্রথম কোপে ছেলে মাটিয়ে লুটিয়ে পড়েন। ফের গলায় কোপ দিলে ঘটনাস্থলেই মারা যান ছেলে শফিকুল।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে অভিযান চালিয়ে মুসলিম উদ্দিনকে আটক করে পুলিশ। দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত দা উদ্ধার করা হয়। এ সময় শত শত গ্রামবাসীর সামনে ছেলে শফিকুল হত্যার দায় স্বীকার করেন বাবা।
পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক, মর্মান্তিক।
শেরপুর সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে