হাসতে হাসতে পটল তুলছেন কৃষকরা
কয়েকদিন থেকে পটলের যত্নে মেতেছেন রাজশাহীর কৃষকরা। পটলের মাচা শক্ত করা, পানি নিস্কাশনের নালাসহ কীটনাশক প্রয়োগ, আগাছা পরিস্কার এবং সার প্রয়োগ করছেন। এমনকি মাচার নীচের মাটিতে গজানো ঘাসও পরিষ্কার করছেন তারা।
কিছুদিন আগেও পটল নিয়ে হতাশ ছিলেন তারা। দাম না পাওয়ায় ছিল দুশ্চিন্তা। অনেকে পটল বাদ দিয়ে অন্য ফসল আবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক তখনই পটলের দাম বাড়ল সাতগুণ। পটলের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের রাজশাহী কার্যালয়ের সূত্রানুযায়ী, এবার সাত হাজার ৬৮ বিঘা জমিতে পটলের চাষ হয়েছে। যা আগের তুলনায় প্রায় ১৫০ বিঘা বেশি। প্রায় সব উপজেলায় পটলের চাষ হয়েছে। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পবায় ৩০০ হেক্টর, মোহনপুরে ২২০ হেক্টর এবং বাগমারায় ১২০ হেক্টর জমিতে পটলের চাষ হয়েছে।
পটলের দাম ১৫ দিন আগে প্রতি মণ পটল ১০০-১৫০ টাকায় বিক্রি হতো। এ মাসের প্রথম থেকে পটলের দাম বাড়তে থাকে। পবার নওহাটা, মোহনপুরের কেশরহাট, বিদিরপুরহাট, মৌগাছি এবং বাগমারার ভবানীগঞ্জ ও মোহনগঞ্জ হাটে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিমণ পটল বিক্রি হয়েছে ৭০০-৮০০ টাকায়। এসব বাজারে প্রতি হাটবারে প্রায় ৫০০-৭০০ মণ পর্যন্ত পটল ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি জেলায় পাঠানো হয়ে থাকে।
রোববার মোহনপুর উপজেলার বিদিরপুর হাটে জমি থেকে নিয়ে আসা প্রতিমণ পটল পাইকারি বাজারে ৭০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ফলে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পটল বিক্রি হয়েছে ১৮ থেকে ২০ টাকা দামে।
পবার তেঘর গ্রামের পটল চাষি জিএম সরকার সোয়া বিঘা ও মোহনপুর উপজেলার নুড়িয়াক্ষেত্র গ্রামের মোবারক আলী এক বিঘা জমিতে পটলের আবাদ করেছেন। তারা জানান, আগাম চাষে এবারে চাষিরা পটলের দাম পাননি। কয়েকদিন থেকে ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। পটলে তেমন রোগ-বালাই নেই। পটলের আবাদও ভালো হয়েছে। ফলে লাভবান হচ্ছেন কৃষক।
তারা আরো বলেন, মাচার খুঁটি ও সুতা নতুনভাবে লাগাচ্ছেন তারা। অগ্রহায়ন মাস পর্যন্ত পটল পাওয়া যাবে। মাচায় থাকা পটলের গুণগত মান ভাল থাকায় চাষিরা দামও একটু বেশি পাচ্ছেন। ভাল দাম এবং বৃষ্টির পানিতে পচনের হাত থেকে পটল রক্ষা করতে চাষিরা কয়েক বছর থেকে মাচায় পটল চাষ করছেন। চর এলাকা ছাড়া কেউই মাটিতে পটল চাষ করছেন না।
বিদিরপুর বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী আকবর আলী বলেন, এখন পটলের মওসুম। কয়েকজন মিলে শেয়ারে ব্যবসা করেন তারা। প্রতি হাটে প্রায় ২০০-২৫০ মণ পটল কিনছেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরাসরি ট্রাকে করে পাঠানো হয়। তবে তিনি ঢাকায় ব্যবসা করেন। প্রতি কেজি পটলে ২-৩ টাকা লাভ থাকে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের রাজশাহীর উপ-পরিচালক শামছুল হক বলেন, রাজশাহী অঞ্চলের জমি পটল চাষের জন্য উপযোগী। এবার পটলের ফলন ভালো হয়েছে। দামও বাড়তে শুরু করেছে। দাম ভাল পেলে আগামীতে এ অঞ্চলের কৃষক পটল চাষে আরেও উৎসাহী হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস