ভয়াবহ এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারায় লাখো মানুষ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৪ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ৩০ ১৪২৭,   ২২ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

ভয়াবহ এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারায় লাখো মানুষ

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৪৬ ২ জুন ২০২০   আপডেট: ১৩:৩৯ ২ জুন ২০২০

ছবি: প্রতীকী

ছবি: প্রতীকী

মানব জাতির ইতিহাসের শুরু থেকেই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হতে হয়েছে। প্রাচীন যুগের অনেক দুর্যোগে মানুষের মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা ইতিহাস থেকে জানা যায়নি। 

উদাহরণস্বরুপ বলা যায়, আনুমানিক ১৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ স্ট্রোগলিতে আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ এবং সুনামির ফলে পুরো মিনোয়ান সভ্যতা নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। এই ভয়াবহ দুর্যোগে কত মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল তার কোনো তথ্য ইতিহাসে নেই।

তবে প্রাচীনকালে ঘটে যাওয়া অন্যান্য অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা না জানা গেলেও ইতিহাসবিদরা কমপক্ষে অনুমান করতে পেরেছেন। তেমনই কয়েকটি বিপর্যয় সৃষ্টিকারী প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে আজকের লেখা। 

আলেপ্পার ভূমিকম্প (আনুমানিক ১১৩৮ সাল)

আলেপ্পার ভূমিকম্প১১৩৮ সালে সিরিয়ার আলেপ্পা নগরীতে একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছিল। পুরো আলেপ্পা নগরী মুহূর্তের মধ্যেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। সেসময় এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যার কোনো সঠিক সংখ্যার ইতিহাস ছিল না। পরবর্তী সময়ে ইতিহাসবিদরা অনুমান করেছেন, আলেপ্পার ভূমিকম্পে প্রায় দুই লাখ ৩০ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেছিল। 

হাইতির ভূমিকম্প (২০১০ সাল) 

হাইতির ভূমিকম্প ২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি হাইতি একটি ভয়াবহ ভূমিকম্পের শিকার হয়। সাত মাত্রার এই ভূমিকম্পে প্রাথমিকভাবে দুই লাখ ৩০ হাজার মানুষের প্রাণহানির তথ্য জানায় কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে ২০১১ সালে হাইতির সরকার এই ভূমিকম্পে তিন লাখ ১৬ হাজার মানুষের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করে। 

ভারত মাহসাগরের ভূমিকম্প এবং সুনামি (২০০৪ সাল) 

ভারত মাহসাগরের ভূমিকম্প এবং সুনামিসুমাত্রার পশ্চিম উপকূলের সমুদ্র তলে ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর নয় দশমিক তিন মাত্রার একটি মহাবিপর্যয় সৃষ্টিকারী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এই ভূমিকম্পের ফলে ভয়াবহ সুনামি সৃষ্টি হয়। একইসঙ্গে ভূমিকম্প এবং সুনামির আঘাতে ১৪টি পৃথক দেশের অনেক মানুষ প্রাণ হারায়। সুনামির কারণে কিছু স্থানে প্রায় ৩০ মিটার পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস হয়। সামগ্রিকভাবে মৃত্যুর সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় দুই লাখ ৩০ হাজার থেকে দুই লাখ ৮০ হাজারে। ইন্দোনেশিয়া এই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করে এবং ৯৪ হাজার জন নিখোঁজ ছিল। 

হাইয়ুয়ানের ভূমিকম্প (১৯২০ সাল)  

হাইয়ুয়ানের ভূমিকম্পচীনের মধ্য অঞ্চলের হাইয়ুয়ান কাউন্টিতে ১৯২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। এই ভূমিকম্পের ৯০ তম বার্ষিকী উপলক্ষে ২০১০ সালে প্রকাশিত এক সমীক্ষা অনুযায়ী, সেখানে দুই লাখ ৭৩ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করে। ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট ভূমিধ্বসে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। চীনের হাইয়ুয়ানের ভূমিকম্পে নিহত বেশিরভাগ মানুষকেই ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

ভারতের ঘূর্ণিঝড় (১৮৩৯ সাল)  

ভারতের ঘূর্ণিঝড় ভারতের অন্ধ্র প্রদেশে ১৮৩৯ সালের ২৫ নভেম্বর একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। ঘূর্ণিঝড়ের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে ১২ মিটার পর্যন্ত উঁচু জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছিল। এতে প্রায় ২০ হাজার জাহাজ এবং নৌযান ধ্বংস হয়েছিল। প্রাণহানি ঘটেছিল আনুমানিক তিন লাখ মানুষের।  

বাংলাদেশের ভোলার ঘূর্ণিঝড় (১৯৭০ সাল) 

বাংলাদেশের ভোলার ঘূর্ণিঝড়ভোলার ঘূর্ণিঝড় ইতিহাসের অন্যতম ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়। এটি সর্বকালের বিপর্যয় সৃষ্টিকারী প্রাকৃতিক দুর্যোগের একটি। ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর বর্তমান বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে একটি শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। সিম্পসন স্কেলে ‘ক্যাটাগরি তিন’ মাত্রার ঘূর্ণিঝড় ছিল এটি। 

ঘণ্টায় প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার গতিতে উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে ঝড়টি। এর ফলে ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়েছিল। এই ঝড়ে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা। সেসময় তজুমদ্দিনের জনসংখ্যা ছিল এক লাখ ৬৭ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ৭৭ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেছিল এই ঝড়ে। 

ইয়েলো নদীর বন্যা (১৮৮৭ সাল) 

ইয়েলো নদীর বন্যাপৃথিবীর ইতিহাসের ভয়ঙ্করতম প্রাকৃতিক দুর্যোগের একটি চীনের ইয়েলো নদীর বন্যা। ১৮৮৭ সালের এই বন্যায় প্রায় ৫০ হাজার বর্গমাইল অঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। এই বন্যায় আনুমানিক নয় লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস