দৃষ্টির সীমানা ছেড়ে চলে যাওয়ার এক বছর

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৭ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৪ ১৪২৬,   ১৩ শা'বান ১৪৪১

Akash

দৃষ্টির সীমানা ছেড়ে চলে যাওয়ার এক বছর

বিনোদন প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৪৫ ২৪ মার্চ ২০২০  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

যে ছিলো দৃষ্টির সীমানায়, যে ছিলো হৃদয়ের আঙ্গিনায়, সে হারালো কোথায় কোন দূর অজানায়- গানটির কথার মতোই এক বছর আগে দৃষ্টির সীমানা ছেড়ে চলে গেছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ। গত বছর ২৩ মার্চ রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর বারিধারার বাসায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। 

শাহনাজ রহমতুল্লাহ মৃত্যুর সময় বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। মৃত্যুর পর বনানীর সামরিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

১৯৫৩ সালের ২ জানুয়ারি ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন শাহনাজ রহমতুল্লাহ। মায়ের হাতেই ছোটবেলায় শাহনাজের গানের হাতেখড়ি। মাত্র ১১ বছর বয়সে ১৯৬৩ সালে ‘নতুন সুর’ চলচ্চিত্রে প্লে-ব্যাক করেন। সেই থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত নিয়মিত গান করেছেন। টেলিভিশনে গান গাইতে শুরু করেন ১৯৬৪ সাল থেকে। দেশের গান যেমন তার কণ্ঠে হয়েছে জনপ্রিয়, তেমনি চলচ্চিত্রের গানও।

শাহনাজ রহমতুল্লাহর কণ্ঠে মানুষ শুনে এসেছেন কালজয়ী গান ‘একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়’, ‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে’, ‘আমার দেশের মাটির গন্ধে’, ‘একতারা তুই দেশের কথা বলরে আমায় বল’, ‘সাগরের তীর থেকে’, ‘যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়’, ‘খোলা জানালা’, ‘পারি না ভুলে যেতে’, ‘ফুলের কানে ভ্রমর এসে’সহ আরো অসংখ্য গান।

‘ছুটির ফাঁদে’ চলচ্চিত্রে গাওয়া ‘সাগরের সৈকতে কে যেন দূর থেকে’ গানটির জন্য প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি। পরবর্তী সময়ে ‘ঘুড্ডি’ সিনেমাতে গান গাওয়ার জন্য তিনি দ্বিতীয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন। বিবিসির জরিপে সর্বকালের সেরা ২০টি বাংলা গানের তালিকায় শাহনাজ রহমতুল্লাহর গাওয়া চারটি গান স্থান পায়।

শাহনাজ রহমতুল্লাহ প্রখ্যাত গজলশিল্পী মেহেদী হাসানের কাছে গজল শিখেছেন। সত্তরের দশকে অনেক উর্দু গীত ও গজল গেয়েছেন। ১৯৭৩ সালে তিনি আবুল বাশার রহমতুল্লার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের এক মেয়ে নাহিদ রহমতুল্লাহ এবং এক ছেলে এ কে এম সায়েফ রহমতুল্লাহ। 

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ছাড়াও সঙ্গীতে অবদানের জন্য তিনি একুশে পদক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, জাপান বাংলাদেশ কালচারাল ফোরাম অ্যাওয়ার্ড, বাচসাস পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনএ/টিএএস