ঢাকা,  সোমবার   ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

জিপিএ-৫ পেয়েও অনিশ্চিত উচ্চ শিক্ষা!

জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:৪৯, ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯
জিপিএ-৫ পেয়েও অনিশ্চিত উচ্চ শিক্ষা!
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণা আর নিজের অদম্য ইচ্ছা শক্তির কাছে হার মেনেছে দারিদ্রতা। 

সব বাধা উপেক্ষা করে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে শাকিল মণ্ডল। বকশীগঞ্জ সরকারি কিয়ামত উল্লাহ কলেজের শিক্ষার্থী শাকিল মণ্ডলের বাড়ি উপজেলার মেরুরচর গ্রামে। তার বাবার নাম সাধু মণ্ডল। তবে দারিদ্রতার কষাঘাতে এ মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।  

জানা যায়, বাবা দিনমজুর, আর মা গৃহিনী। বাড়ি-ঘর ছাড়া নেই কোনো জমিজমা কিংবা আয়ের কোনো উৎস। দিনমজুর বাবার সামান্য আয়ের উপর নির্ভর করে কোনোরকম চলে অভাব অনটনের সংসার। যেখানে নুন আনতে পানতা ফুরায় সেখানে ছেলের উচ্চ শিক্ষা নিয়ে বিপাকে শাকিলের দরিদ্র বাবা-মা। শাকিলকে নিয়ে অনেক স্বপ্নও ছিল বাবা সাধু মণ্ডলের। কিন্তু অর্থের অভাবে তাসের ঘরের মতো সে স্বপ্ন ভেঙে যেতে বসেছে।

শাকিল মণ্ডল জানান, বাবা-মা কলেজের স্যাররা আমাকে দারুণভাবে উৎসাহ সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। জিপিএ-৫ পেলেও এখন দুঃচিন্তায় ভুগছি। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ভর্তি পরীক্ষা শুরু। ঢাকা, জগন্নাথ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরম তুলেছি। এখন্ত পর্যন্ত গাড়ি ভাড়ার টাকা যোগাড় করতে পারিনি। জানি না শেষ পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারবো কিনা। তবে সুযোগ পেলে লেখাপড়া করে ব্যাংকার হয়ে মানুষের সেবা করতে চাই।

শাকিলের বাবা সাধু মণ্ডল জানান, অনেক স্বপ্ন ছেলে আমার বড় অফিসার হবে। কিন্তু আমাদের মত গরীবের স্বপ্ন দেখতে নেই। টাকার অভাবেই হয়তো ছেলেকে পড়াতে পারবো না। তবে ছেলের ইচ্ছা পূরণ করতে তিনি সকলের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেছেন।

মেরুরচর হাইস্কুলের সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী এম. শাহীন আল আমীন বলেন, শাকিল মণ্ডল বকশীগঞ্জের কৃতি শিক্ষার্থী। দারিদ্রতার কাছে শাকির মণ্ডল যাতে হেরে না যায়। তার লেখাপড়ায় সহযোগিতার জন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!