ওয়াটফোর্ড কোচ বলেছিলেন, বাংলাদেশি তরুণদের আলোকবর্তিকা হবেন হামজা
‘আমি মনে করি সে তরুণ বাংলাদেশিদের জন্য একজন সত্যিকারের আলোকবর্তিকা হতে পারে। যারা তাকে দেখে বলতে পারে যে, আমি এমনটা করতে পারি। হামজা একজন সত্যিকারের আলোকবর্তিকা হতে পারে। অন্যদেরকে খেলাধুলা করতে উৎসাহিত করতে পারে। যদি সে বাংলাদেশের হয়ে খেলাটা পছন্দ করে, আমি মনে করি এটি অনেকের জন্য সত্যিই ইতিবাচক হতে পারে।’
বাংলাদেশের জার্সিতে খেলার ছাড়পত্র পাওয়া হামজা চৌধুরীকে নিয়ে ২ বছর আগে এমন মন্তব্য করেছিলেন ওয়াটফোর্ড কোচ রব এডওয়ার্ডস। ২০২২ সালে লেস্টার সিটি থেকে ধারে ইংলিশ ক্লাব ওয়াটফোর্ডে ২৬ বর্ষী ফুটবলারকে নিয়ে তিনি উচ্ছ্বসিত ছিলেন।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় ছিল দেশের ফুটবল অঙ্গন। অবশেষে এলো সেই কাঙ্ক্ষিত সুখবর। ফিফার ফুটবল ট্রাইব্যুনালের প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস চেম্বার হামজাকে বাংলাদেশের হয়ে অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়েছে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে ওয়াটফোর্ড কোচ আরো বলেছিলেন, ‘তার সাথে কাজ করা আনন্দের বিষয়। সে এমন একজন যে প্রতিদিন শতকরা ১০০ ভাগ নিজেকে উজাড় করে দেয়। সে খুব ইতিবাচক মানসিকতার, আপনি তার পারফরম্যান্সে সেটি দেখতে পাচ্ছেন। আমি তার সম্পর্কে যথেষ্ট কথা বলতে অপারগ।’
‘তবে এখনও তার থেকে সেরাটা আসেনি। কোনো সন্দেহ নেই শিগগিরই আমরা সেরা হামজাকে দেখব। সে একজন উদীয়মান ফুটবলার এবং মানুষ হিসেবেও দারুণ।’
হামজা অনেকদিন ধরেই বাংলাদেশের হয়ে খেলতে চাইছিলেন। বাফুফেও তাকে পেতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছিল। আড়াই মাস আগে ইংল্যান্ড প্রবাসী এই ফুটবলার বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাওয়ার পাশাপাশি ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) কাছ থেকে সম্প্রতি অনাপত্তিপত্র পান। তাতেই লাল-সবুজের জার্সিতে তার খেলার সম্ভাবনা বেড়েছিল।
বাংলাদেশি মা ও গ্রানাডিয়ান বাবার সন্তান হামজা। বেড়ে উঠেছেন ইংল্যান্ডের লাফবরোতে। খেলেছেন ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে। জামাল ভূঁইয়া-তারিক কাজীদের মতো বাংলাদেশের জার্সিতে তাকে দেখতে মুখিয়ে অনেকে। মায়ের দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নিলে সেটা হামজার জন্য দারুণ কিছু বয়ে আনবে বলেই সকলের বিশ্বাস।