বাবর প্রসঙ্গে ‘ফাঁস’ হওয়া কল রেকর্ডে যা আছে
ত্রয়োদশ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর তিন ফরম্যাটেই অধিনায়কত্ব ছাড়েন পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম। নেতৃত্ব ছেড়ে এখন তিনি দলটির অভিজ্ঞ ব্যাটার।
বাবরের সরে যাওয়ার পরপরই পিসিবি টেস্ট ও টি-২০ দলের নেতৃত্ব তুলে দিয়েছে শান মাসুদ ও শাহিন আফ্রিদির কাঁধে। তবে এখনও ঘোষণা করা হয়নি ওয়ানডে দলপতির নাম।
ওয়ানডে বিশ্বকাপ চলাকালেই গুঞ্জন রটেছিল নেতৃত্ব থেকে ছাঁটাই হতে যাচ্ছেন বাবর। আবার এও শোনা যাচ্ছিল নেতৃত্বে থেকে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে বাবরের। কিন্তু দেশে ফিরেই নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন প্রতিভাবান এ ক্রিকেটার।
তবে কি কারণে তিনি নেতৃত্ব ছেড়েছেন সে বিষয়ে বাবর ও পিসিবি কেউই মুখ খোলেনি। কিন্তু সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক অডিও কল ভাইরাল হওয়ায় সামনে এসেছে বাবরের নেতৃত্ব ছাড়ার কারণ। খবর ডনের।
ফাঁস হওয়া অডিও কলটি পিসিবি চেয়ারম্যান জাকা আশরাফের সঙ্গে এক মহিলার। ২ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের সেই ফোনালাপে বাবরের নেতৃত্ব ছাড়া এবং শান মাসুদ ও আফ্রিদির নেতৃত্বে আসার কারণও জানা যায়।
ঐ অডিও ফোনকলের মাধ্যমে জানা যায়, পিসিবি চেয়ারম্যান বাবরকে টেস্টের নেতৃত্ব থাকার অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু বাবর সব ফরম্যাট থেকেই নিজেকে গুটিয়ে নেন। এর জন্য পিসিবি প্রধান বিশেষ এক ব্যক্তির দিকে ইঙ্গিত করেন।
ফাঁস হওয়া ফোনালাপে জাকা আশরাফকে একজন মহিলা বলছেন, ‘আমরা ক্রিকেটপ্রেমী। আমরা দেখছি বাবর ওর বন্ধুদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে শাদাব খানের মতো ওর ঘনিষ্ঠদের পাশে। অথচ দলে ওর জায়গা পাওয়াই উচিত নয়।’
মহিলার বক্তব্যের জবাবে পিসিবি সভাপতিকে বলতে শোনা যায়, এ জন্যই পাকিস্তানের ক্রিকেটের ক্ষতি হচ্ছে। সেখানে পাশ থেকে আরো একজনের কথাও শোনা যায়। যিনি হাসান আলির দলে জায়গা পাওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন।
এর উত্তরে আশরাফ বলেন, হাসানও বাবরের খুব ভাল বন্ধু। তখন পাশ থেকে ঐ মহিলা বলেন, হাসান তো এই জন্য খেলেছিল যে নাসিম শাহ ছিল না।
এরপর পিসিবি প্রধান আরো বলেন, তালহা বলে একজন এজেন্ট আছে। জাতীয় দলের আটজন ক্রিকেটারকে সে নিয়ন্ত্রণ করে। ক্রিকেটারদের সঙ্গে ওর চুক্তি রয়েছে। ছেলেটি খুব চতুর। ক্রিকেটারদের বাড়ি গিয়ে গিয়ে ওদের এবং পরিবারের সঙ্গে দারুণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ক্রিকেটাররাও ওর কথা ছাড়া কিছু করে না। মনে হয় ছেলেটার পুরো নাম তালহা ওসমানি। আমি অবশ্য ওর নামটা ঠিক জানি না।
বিশ্বকাপের পর বাবরের সঙ্গে কথোপকথনের বিষয়ে জানাতে গিয়ে জাকা আশরাফ বলেন, ‘বাবরকে বলেছিলাম, তোমারই টেস্ট দলের অধিনায়ক থাকা উচিত। তোমাকে শুধু সাদা বলের ক্রিকেটের নেতৃত্ব ছাড়তে বলছি। এটা শোনার পর বাবর আমাকে বলে, ঠিক আছে। বাড়িতে একটু আলোচনা করি। তারপর আপনাকে আমার সিদ্ধান্ত জানাব।’
পিসিবি বস বলেন, আমি জানি যে এরপরই বাবর ফোন করে তালহা নামের ছেলেটাকে। বিষয়টা নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করে। তালহাই ওকে সব ধরনের ক্রিকেটের নেতৃত্ব ছেড়ে দেয়ার পরামর্শ দেয়।
ভাইরাল হওয়া ফোনালাপে আশরাফকে বলতে শোনা যায়, আমার একটা দ্বিতীয় পরিকল্পনা তৈরি ছিল। বাবরের উত্তর শুনেই অন্য একজনকে বলেছিলাম, ভাই এখন থেকে তুমিই অধিনায়ক। এরপর সেই মহিলা প্রশ্ন করেন, আপনি কি শান মাসুদকে বলেছিলেন কথাটা?
আশরাফ বলেন, না, সাদা বলের ক্রিকেটে অধিনায়ক হওয়ার জন্য শাহিন আফ্রিদিকে ফোন করেছিলাম। মহিলা বলেন, শাহিন ভাল, কিন্তু মোহাম্মদ রিজওয়ান কি বেশি ভাল হত না সাদা বলের জন্য? উত্তরে আশরাফ বলেন, আমিও রিজওয়ানকে পছন্দ করি। কিন্তু রিজওয়ানও বাবর এবং তালহার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।
শাহিন আফ্রিদিকে তার শ্বশুর শহিদ আফ্রিদি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন বলে আস্থা প্রকাশ করেন আশরাফ। এরপর ফোনের অন্য প্রান্তে থাকা ব্যক্তি প্রশ্ন করেন, শহিদ কি একটু বেশি হস্তক্ষেপ করে না? সেটা কি ভাল হবে? আশরাফ বলেন, দেখ এ টুকু তো হবেই। শেষে ওই মহিলা বলেন, পাকিস্তান ক্রিকেটের ভাল হলেই ভাল।