ঢাকা,  শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ ধর্ম ]

কোরবানির গোশত খাওয়া হারাম হয়ে যায় যে ভুলে

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫:৩১, ১৬ জুন ২০২৪
কোরবানির গোশত খাওয়া হারাম হয়ে যায় যে ভুলে
অলংকরণ: ডেইলি বাংলাদেশ

পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব।দেখতে দেখতেই কোরবানির ঈদ চলে এলো। ইসলামে কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। সাধারণত উট, গরু, মহিষ, দুম্বা, ভেড়া ও ছাগল দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ। ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কমপক্ষে এক বছর পূর্ণ হতে হবে, গরু-মহিষ দুই বছর পূর্ণ হতে হবে, উট পাঁচ বছর পূর্ণ হতে হবে। (হিদায়া, খ--৪, পৃ. ১০৩)

কোরবানির পশু জবাই করার সময় হলো ১০ জিলহজ ঈদুল আজহার নামাজ সম্পন্ন করার পর থেকে ১২ জিলহজ মাগরিবের আগ পর্যন্ত। জিলহজ মাসের ১২ তারিখ সূর্যাস্তের পর কোরবানি করা শুদ্ধ নয়। (ফতোয়ায়ে আলমগিরি: ৫/২৯৬)

কেউ কোরবানির পশু যথাসময়ে জবাই না করলে তথা নির্দিষ্ট তিনদিনের (জিলহজের ১০, ১১, ১২ তারিখের) পরে জবাই করলে সেই গোশত নিজে রেখে দিতে পারবে না। বরং সব গোশতই সদকা করে দিতে হবে। এ বিষয়ে ফতোয়ার কিতাবে উল্লেখ রয়েছে—কোরবানির দিনগুলোতে যদি জবাই করতে না পারে তাহলে সেই পশুই সদকা করে দিতে হবে। যদি (সময়ের পরে) জবাই করে ফেলে তাহলে পুরো গোশত সদকা করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে গোশতের মূল্য যদি জীবিত পশুর চেয়ে কমে যায় তাহলে যে পরিমাণ মূল্য হ্রাস পেল তা-ও সদকা করতে হবে। (বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২০২, আদ্দুররুল মুখতার: ৬/৩২০-৩২১)

কোরবানি ওয়াজিব হওয়া সত্ত্বেও কেউ যদি পশু ক্রয় না করে থাকে এবং কোরবানি না করে থাকে, তাহলে তার ওপর কোরবানির যোগ্য একটি ছাগলের মূল্য সদকা করে দেওয়া ওয়াজিব। যথাসময়ে কোরবানি না করার কারণে তাওবা-ইস্তেগফারও করবে। (ফতোয়া তাতারখানিয়া: ১৭/৪২৩; রদ্দুল মুহতার: ৬/৩২১; তুহফাতুল ফুকাহা: ৩/৮৩; বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২০২)

অতএব, কোরবানি করতে হবে নির্দিষ্ট সময়ের (জিলহজের ১০, ১১, ১২ তারিখের) মধ্যে। যথাসময়ে কোরবানি করলে জবাইকৃত পশুর গোশত খাওয়াকে আল্লাহ তাআলা অবৈধ করেননি। কোরবানির গোশত বিতরণের উত্তম পদ্ধতি হলো—এক-তৃতীয়াংশ গরিব-মিসকিনকে এবং এক-তৃতীয়াংশ আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীকে দেওয়া। অবশ্য পুরো মাংস যদি কেউ নিজে রেখে দেয়, তাতেও কোনও অসুবিধা নেই। (বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২২৪; আলমগিরি: ৫/৩০০)

আবার, ইচ্ছাকৃতভাবে বিসমিল্লাহ বা আল্লাহর নাম না নিয়ে জবাই করলেও গোশত হারাম হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘আর তোমরা তা থেকে আহার করো না, যার ওপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়নি এবং নিশ্চয় তা গর্হিত।’ (সুরা আনআম: ১২১)

পশুর খাদ্যনালি, কণ্ঠনালি না কাটলেও ওই পশুর গোশত হারাম হয়ে যায়। পশু জবাইয়ের সঠিক পদ্ধতি হলো, জবাই করার সময় চারটি রগ কাটতে হবে। সে চারটি রগ হচ্ছে, শ্বাসনালি, খাদ্যনালি এবং শ্বাসনালির দুই পার্শ্বের দুটি মোটা রগ। কোনো কারণে চারটি রগ না কেটে তিনটি কাটলে গোশত খাওয়া বৈধ হবে। কিন্তু তিনটির কম কাটলে সেই পশু বা পাখি মৃত বলে গণ্য হবে এবং তা খাওয়া বৈধ হবে না। কোরবানি শুদ্ধ হবে না। তবে যেকোনো তিনটি রগ কাটা গেলে কোরবানি শুদ্ধ হবে। (বেহেশতি জেওর, পৃষ্ঠা-৩৭৫; হেদায়া: ৪/৪৩৭)

এক্ষেত্রে আলেমদের পরামর্শ হলো- পশু নিজ হাতে জবাই করা উত্তম। যদি নিজে জবাই করতে না পারে তবে অন্যের দ্বারা জবাই করাবে। এ অবস্থায় নিজে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা উত্তম। (ফাতাওয়ায়ে শামি: ৫/২৭২)

মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের যারা সামর্থ্যবান রয়েছেন তাদের সকলকে সাধ্য অনুযায়ী কোরবানি করার তৌফিক দান করুক, আমিন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এনকে
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!