ঋতুস্রাবের কতদিন পর নামাজ-রোজা করা যাবে?
নারীদের অনেকেরই ঋতুস্রাব সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই। অনেকেই এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে লজ্জা পান। অনেকেই জানেন না ঋতুস্রাব হলে কতদিন পর্যন্ত নামাজ-রোজা করা থেকে বিরত থাকতে হয়। ইসলাম এ সম্পর্কে সুষ্টু ও সঠিক ধারণা দিয়েছেন।
শরীয়তের পরিভাষায় ঋতুস্রাবকে হায়েয বলা হয়। ঋতুস্রাবের সময়সীমা সর্বনিম্ন ৩দিন ৩ রাত এবং সর্বাধিক ১০দিন ১০ রাত। এ সময়গুলোতে নামাজ পড়া নিষেধ। নামাজ পুরোপুরি মাফ হয়ে যায় এবং পরে কাজা নামাজও পড়তে হয় না। তবে রোজা সাময়িকভাবে বাদ হয় এবং পরে রোজার কাজা আদায় করে নিতে হয়।
এছাড়া ওয়াক্তের নামাজ এখনো আদায় করেননি কিন্তু নামাজ পড়ার সময় এখনো আছে এই অবস্থায় ঋতুস্রাব শুরু হলে সেই ওয়াক্তের নামাজ মাফ হয়ে যাবে। নামাজের শেষ ওয়াক্তে ঋতুস্রাব হয়েছে কিন্তু এখনও যদি নামাজ না পড়ে থাকেন তাহলে সেটারও ক্বাযা পরতে হবে না।
যদি কারো ১০দিন এর কম স্রাব হয় এবং এমন সময়ে গিয়ে ঋতুস্রাব শেষ হয় যে খুব তাড়াতাড়ি ফরজ গোসল করে নেয়ার পর একবার আল্লাহু আকবর বলার সময় থাকে, তবে সেই ওয়াক্তের নামাজ পড়তে হবে। এমন অবস্থায় নামাজ শুরু করার পর ওয়াক্ত শেষ হয়ে গেলেও নামাজ শেষ করতে হবে। তবে ফজরের ওয়াক্ত হলে যদি নামাজ শুরু করার পর সূর্য উদিত হয়ে যায় তবে সে নামাজ কাজা করতে হবে। (সূত্র: হেদায়া, হায়েজ অধ্যায়। )
আল্লাহ তায়ালা বলছেন, “তারা তোমাকে নারীদের ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে; তুমি বলে দাও, সেটা হচ্ছে কষ্টদায়ক বস্তু”। (সূরা বাকারা: ২২২)
وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُواْ النِّسَاء فِي الْمَحِيضِ وَلاَ تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّىَ يَطْهُرْنَ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللّهُ إِنَّ اللّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ
উচ্চারণ: ওয়া ইয়াছআলূনাকা আনিল মাহীদি কুল হুওয়া আযান ফা তাঝিলুন্নিছাআ ফিল মাহীদি ওয়ালা তাকরাবুহুন্না হাত্তা-ইয়াতহুরনা ফাইযা-তাতাহহারনা ফা তুহুন্না মিন হাইছুআমারাকুমুল্লা-হু ইন্নাল্লাহা ইউহিব্বুত্তাওওয়া-বীনা ওয়াইউহিব্বুল মুতাতাহহিরীন।
অর্থ: আর তারা তোমাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বল, তা কষ্ট। সুতরাং তোমরা ঋতুস্রাবকালে স্ত্রীদের থেকে দূরে থাক এবং তারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হয়ো না। অতঃপর যখন তারা পবিত্র হবে তখন তাদের নিকট আস, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাকারীদেরকে ভালোবাসেন এবং ভালোবাসেন অধিক পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে।