ঢাকা,  শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ জাতীয় ]

আশ্রমে মদ-ইয়াবা খেয়ে বয়স্কদের পেটাতেন মিল্টন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:১৮, ১ মে ২০২৪
আশ্রমে মদ-ইয়াবা খেয়ে বয়স্কদের পেটাতেন মিল্টন
ফাইল ফটো

সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে মানবসেবার আড়ালে প্রকৃত মিল্টন সমাদ্দারের চিত্র ফুটে উঠেছে। একে একে বেরিয়ে আসছে আশ্রমের আড়ালে ভয়ঙ্কর সব ঘটনা। এর মধ্যে নতুন করে জানা গেল, গভীর রাতে আশ্রমে বসে মদ ও ইয়াবা সেবনের পর মাতাল হয়ে বয়স্ক মানুষদের মারধরের মতো অভিযোগও। টর্চার সেলে আটকে মারধরের পর এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।

রাজধানীর কল্যাণপুর ও দক্ষিণ পাইকপাড়া এলাকায় সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, এই এলাকার সাধারণ মানুষ মিল্টন সমাদ্দারের ভয়ে আতঙ্কিত থাকতেন। কেউ প্রতিবাদ করলেই তাকে আশ্রমে ঢুকিয়ে মারধর করা হতো। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানিও করা হয় অনেককে। পরে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে করা হয় আপস-রফা।

মিরপুরের দক্ষিণ পাইকপাড়ায় মিল্টনের আশ্রমের আশপাশের প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বলে সবার মধ্যেই এক ধরনের চাপা আতঙ্ক দেখা গেছে। তবে এতদিন চুপ থাকলেও তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর অনেকেই মুখ খুলতে শুরু করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, মিল্টনের আশ্রমের নানা অনিয়মের বিষয়ে সবাই জানলেও এতদিন কেউ ভয়ে মুখ খোলেননি। প্রায় প্রতিদিনই তার আশ্রমে লোক মারা যায়। তবে সেসব লাশ কী করা হয়, তা কেউ জানেন না। এলাকার কাউকে আশ্রমের ভেতর ঢুকতেও দেওয়া হতো না। পান থেকে চুন খসলেই যাকে-তাকে আশ্রমে ঢুকিয়ে মারধর করা হতো। এরপর উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে করা হতো হয়রানি।

মিল্টন সমাদ্দারকে ইয়াবা সরবরাহ করতেন বলে জানান আসাদুজ্জামান তাপস নামে এক ব্যক্তি। গণমাধ্যমে তিনি বলেন, একসময় মিল্টনের সঙ্গে তার আশ্রমে নিয়মিত ইয়াবা সেবন করতাম। দুবার আমার বাসায় বসেও আমরা ইয়াবা সেবন করেছি। আমি মিল্টনকে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২৫টি করে ইয়াবা এনে দিতাম। এছাড়া মিল্টন প্রচুর মদ পান করেন।

তাপস বলেন, একবার মিল্টন আমাকে ১৫টি ইয়াবা আনার জন্য টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু স্পটে ঝামেলা হওয়ায় টাকা দিলেও জিনিস আনতে পারিনি। যে কারণে মিল্টন আমাকে মারধর করেন।

আশ্রমের পাশের এক বাড়ির মো. সুজন নামের এক যুবক বলেন, মিল্টন আশ্রমের ভেতর নিয়মিত মদ পান করেন। একবার থার্টিফার্স্ট নাইটে তাকে লোকজন নিয়ে মদপানসহ ফুর্তি করতে নিজের চোখে দেখেছি। ডোপ টেস্ট করলেই সব বেরিয়ে আসবে।

এছাড়া গভীর রাতে নেশা করে আশ্রমের বৃদ্ধ ও শিশুদের মারধর করা হয় বলেও জানান সুজন।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর দেওয়ান আবদুল মান্নান গণমাধ্যমে বলেন, আসলে তার আশ্রমে কী হয়, তার কিছুই আমরা জানি না। সবসময়ই মনে হতো, উনি কোনো কিছু লুকাতে চান। ঢাকা শহরে কেউ মারা গেলে তার সনদ দেওয়া হয় স্থানীয় কাউন্সিলর অফিস থেকে। কিন্তু মিল্টন আমার কাছে কখনো সনদের জন্য আসেননি। বেওয়ারিশ মরদেহ হলেও কাউন্সিলর অফিস থেকে দেওয়া ডেথ সার্টিফিকেট দিয়ে ঢাকার যেকোনো সরকারি কবরস্থানে দাফন করা যায়। মিল্টন সমাদ্দার ঘুষ দিয়ে মরদেহ দাফনের যে দাবি করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএইচ/এমআরকে
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!