ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ লাইফস্টাইল ]

যেসব কারণে শীতকাল বিয়ের উপযুক্ত সময়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫:৫০, ৮ ডিসেম্বর ২০২১
যেসব কারণে শীতকাল বিয়ের উপযুক্ত সময়
শীতকাল বিয়ের উপযুক্ত সময়। ছবি : সংগৃহীত

বিয়ের করার জন্য কি আসলে কোনো সময় লাগে? নির্দিষ্ট কোনো দিন-তারিখ-মাস অথবা মৌসুম লাগে? না তেমন লিখিত কোনো নিয়ম নেই।তবে, শীতকে বলা হয় বিয়ের মৌসুম। কারণ শীতকাল এলেই বিয়ের ধুম পড়ে যায়।যেন শীত মানেই বিয়ের মৌসুম। শীতে বিয়ের আয়োজন করা হলে বাড়তি কিছু সুবিধা পান আয়োজকরা।

তবে শীতকালই কেন বিয়ের উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচিত? এক নজরে দেখে নিন শীতকালে বিয়ের যত সুবিধা-

ছুটি: নভেম্বরের মধ্যে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাসহ ওই বছরের শিক্ষা কার্যক্রম শেষ হয়। অতএব পরিবারের ছোটদের স্কুল-কলেজ ডিসেম্বরে বন্ধ থাকে। এ সময় তাদের সঙ্গে ছুটি মিলিয়ে বড়রাও সহজে বেড়াতে যেতে পারে। এ সুযোগেই সব আত্মীয়-পরিজন একত্রিত হতে পারেন। বছরের অন্যান্য সময় সবাইকে একত্রে পাওয়া ততটা সহজ নয়। তাই বিয়ের জন্য বেশিরভাগ মানুষ শীতকালই বেছে নেন।

পরিশ্রম কম: দাওয়াত, খাওয়া-দাওয়া, প্যান্ডেলসহ অনেক কাজ করতে হয় বিয়েতে। এই কাজগুলো সবাই মিলে হাত লাগিয়ে সারতে হয়। গরমের দিনে একটু পরিশ্রম করলেই হাঁপিয়ে উঠতে হয়। কিন্তু শীতকালে বিয়ে হলে সেই ভয় একদমই নেই। বরং কাজ করলে শীতের অনুভূতিটা কম হয়। বিয়েতে হাজারটা কাজ করার লোকের অভাব হয় না। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করে দিতে আগ্রহী থাকে। তাই বিয়ের জন্য শীতই পারফেক্ট সময়।

খাওয়া দাওয়া: গরমের সময়ে খেতে হয় রয়ে-সয়ে। খাবারে একটু এদিক-সেদিক হলেই পেটের ভেতর গুড়গুড় শুরু হয়ে যায়। কিন্তু শীতকালে সেই চিন্তা নেই। এমনিতেই নানা পিঠাপুলি পেট ভরে খাওয়া হয়, পাশাপাশি দাওয়াতেও খাওয়া যায় কবজি ডুবিয়ে। আর বিয়ে মানেই বিশেষ খানাপিনা। তাই বিয়ের জন্য শীতকালই উপযুক্ত সময়।

বিয়ের সাজ: বিয়েতে বর-বউ দুজনকেই সাজতে হয়। বরের সাজ নিয়ে খুব বেশি চিন্তা না থাকলেও বিয়ের সাজে কনেকে দেখতে সবার থেকে সুন্দর লাগা চাই। আর তাইতো মনের মতো করে সাজতে চান প্রত্যেক কনেই। শীত বাদে বাকি সময়টায় মেকআপ লাগিয়ে সাজলে মুশকিল। একটু বেশি ঘামলেই গলে গলে পড়ে সব সাজ। তাই কনের সাজ হোক বা বরের, শীতকালে বিয়ে হলে যত খুশি সাজুন, নষ্ট হওয়ার এতটুকু ভয় নেই। আর বর-কনে ছাড়া বাকিরাও বিয়েবাড়ির সাজের আনন্দ নিতে পারেন চুটিয়ে।

সহজলভ্য ফুল : বিয়েতে ফুল ছাড়া ডেকোরেশন হয় না। পারফেক্ট ডেকোরেশনের জন্য ফুল চাই। শীতকালে সব ফুলই সহজলভ্য। হাত বাড়ালেই ফুল আর ফুল। ফুলের সহজলভ্যতা বিয়ের উৎসবকে আরও বেশি জমকালো আর অভিজাত করে তোলে। ডালিম, রজনীগন্ধা, অর্কিড, গাঁদা, গোলাপ, জুঁই সব ধরনের ফুল পাওয়া যায় প্রায় অর্ধেক দামে। ফুলের রঙ আর গন্ধে মন ভালো হয়ে যায় সবার।সহজলভ্য হয়এসব ফুল। তাই বিয়ের ডেকোরেশনে ফুলের খরচও একটু কমে।

অতিরিক্ত খরচ নেই: শীতের সময়ে দিনগুলো খুব একটা বড়ো না হওয়ায় আয়োজনের সুবিধা হয়। ফলে শীতকালে বিয়ে হলে বিকেলের মধ্যে আত্মীয়দের খাওয়ানোসহ সবকাজ সেরে নেওয়া যায়। এতে টাকা পয়সার অপব্যবহার বা অতিরিক্ত কোনো খরচ হয় না।

বিদ্যুৎ বিলে সাশ্রয়: শীতকালে বিয়ে হলে ফ্যান চালাতে হয় না, তার ওপর নতুন বউ ঘরে থাকলে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর একটা তাড়া থাকে বলে গুজব আছে। তাই তাড়াতাড়ি ঘুমানো মানে, সব লাইট-টিভি বন্ধ। আর সেই কারণে আপনার বিলটাও কম আসবে। বিশ্বাস না হলে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।

মশারি টানানোর ঝামেলা নেই: বিয়ের আয়োজনে সাধারণ বাড়িতে বহু মানুষের উপস্থিতি থাকে। কিন্তু একটি পরিবারে অতিরিক্ত মশারি তেমন থাকে না। তাই শীতকালে বিয়ে হলে সুবিধা, বেশিরভাগ সময় মশারি দরকার হয় না। ঘরের অনেক কাজ করলেও অনেকেই মশারি টানানো বাড়তি ঝামেলা মনে করেন। অলসতা বা অন্য কোনো কারণই হোক না কেন শীতে মশারি টানানো নিয়ে আপনার কোনো টেনশন নেই। এমনিতে মশা কম থাকে। কারণ কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমালে মশা কামড়ানোর কোনো চান্স নেই।

হানিমুন: নতুন বিবাহিত দম্পতির বিবাহের পরে একসঙ্গে ছুটি কাটানোর অর্থাৎ হানিমুনের জন্য সবথেকে ভালো সময় এটি। শীতের সময়টা ঘোরাঘুরির জন্য উপযুক্ত সময়। তাই এ সময় বিয়ে এবং এর পরে হানিমুনে ঘোরাঘুরিটা জমে বেশ। পরস্পরের পাশাপাশি থেকে উষ্ণতাও ভাগাভাগি করা যায়, সেই সুযোগে সঙ্গীকে চিনে নেওয়া যায়, জেনে নেওয়া যায়। আবার হোটেলসহ সব জায়গায় কাপল প্যাকেজ থাকায় নব-বিবাহিতরা অনেক সুবিধা পেয়ে থাকেন। তাই বিয়ে এবং হানিমুনের জন্য শীতের সময়টাই উপযুক্ত।

এসব কারণে বিভিন্ন উৎসব ও আয়েজনে শীতকাল বেশ পছন্দের একটি সময়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!