ত্বকের জন্য দাড়ি কতটা উপকারী
বর্তমানে পুরুষদের ফ্যাশনের একটি বড় অংশ হচ্ছে মুখ ভর্তি দাড়ি রাখা। তাইতো আজকাল অধিকাংশ পুরুষকেই মুখ ভর্তি দাড়ি রাখতে দেখা যায়। তবে শুধু মুখ ভর্তি দাড়ি রাখলেই কি চলে! এজন্য বিভিন্ন স্টাইলও অনুসরণ করতে দেখা যায় পুরুষদের। যা বেশ মানানসইও হয়ে থাকে।
কেউ কেউ দাড়ি রাখা পছন্দ করেন না। আবার কারো কারো মতে, দাড়িতে পুরুষকে সুদর্শন দেখা যায়। তবে সৌন্দর্য কিংবা ফ্যাশন- এসবের বাইরেও দাড়ির রয়েছে নানা উপকারী দিক। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষের স্বাস্থ্যের জন্য দাড়ি রাখা উপকারী। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞেরাও এই তত্বে একমত।
দাড়ি রাখার স্বাস্থ্যকর দিকগুলো জেনে নেয়া যাক-
শেভিং র্যাশ থেকে মুক্তি
অনেকের ত্বক খুব স্পর্শকাতর হয়ে থাকে। আর বারবার শেভ করলে তাদের ত্বকে শেভিং র্যাশের সৃষ্টি হয়। দাড়ি রাখার অভ্যাস এই সমস্যা থেকে মুক্তি দেবে।
ত্বকে বয়সের ছাপ ধীরে পড়ে
অনেককেই অল্প বয়সে বুড়িয়ে যেতে দেখা যায়। তবে যারা দাড়ি রাখেন, তাদের ত্বকে বয়সের ছাপ ধীরে পড়ে। মার্কিন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যাডাম ফ্রাইডম্যান-এর মতে, মুখের ত্বক দাড়ি দিয়ে ঢাকা থাকার ফলে সূর্যের আলোর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব হয়। এতে ত্বকের ক্ষতি কম হয়, বলিরেখা পড়ে অনেক দেরিতে। তাই ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে দেরি হয়।
ব্রণের ঝামেলা থেকে মুক্তি
পুরুষের ত্বকেও ব্রণ ওঠে। শেভিং করার বিভিন্ন কেমিক্যাল মিশ্রিত উপাদান ও ধুলোবালি এই সমস্যা আরো বাড়িয়ে তোলে। যারা দাড়ি রাখেন, তারা নিয়মিত দাড়ির যত্ন নিলে এই ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন খুব সহজেই।
অ্যালার্জি থেকে দূরে রাখে
পুরুষদের মধ্যে যাদের ধুলো-ময়লা এবং রোদে অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য দাড়ি রাখা বেশ উপকারী। এতে মুখের ত্বক সরাসরি ধুলোবালি এবং রোদের সংস্পর্শে আসে না। তাই অ্যালার্জি সংক্রান্ত সমস্যা থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়।
স্কিন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়
সরাসরি রোদ ত্বকে লাগা, শেভ করার সময় ও শেভ করার পর নানা ধরনের কেমিকেল ব্যবহার করার ফলে স্কিন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়। তাই পুরুষের ক্ষেত্রে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞেরা স্কিন ক্যান্সার থেকে রক্ষা পেতে দাড়ি রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
হাঁপানির প্রকোপ কমায়
গবেষণায় দেখা যায়, দাড়ি রাখলে তা নাকেমুখে ক্ষতিকর ধুলোবালি ঢুকতে বাধা প্রদান করে। আর হাঁপানির রোগীদের জন্য ধুলোবালি ভীষণ ক্ষতিকর। দাড়ি রাখার ফলে হাঁপানির সমস্যা থেকেও মুক্ত থাকা সম্ভব হয়। সূত্র : জি নিউজ।