ঢাকা,  রোববার   ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ আইন-আদালত ]

শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল

আদালত প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৫৮, ৩১ আগস্ট ২০২৬
শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল
সংগৃহীত ছবি

মাগুরার বহুল আলোচিত আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে গত ২৫ আগস্ট মামলাটির রায় ঘোষণার দিন নির্ধারিত থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদনের পর আদালত রায় ঘোষণার জন্য ৩১ আগস্ট দিন ধার্য করেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক। তাকে সহায়তা করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি। অন্যদিকে, আসামি হিটু শেখের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে শুনানি করেন হাফিজুর রহমান খান।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ৫ মার্চ মাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের শিশু আছিয়া। রমজানের ছুটিতে সে সেখানে বেড়াতে গিয়েছিল। মামলার অভিযোগে বলা হয়, বোনের শ্বশুর হিটু শেখ শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার চেষ্টা করেন।

পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মারা যায় শিশু আছিয়া।

এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ চারজনকেই গ্রেপ্তার করে।

২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এরপর ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয় এবং ২৭ এপ্রিল শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলায় মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন। ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসের মধ্যে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

পরে গত বছরের ১৩ মে মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়। ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। মামলার অপর তিন আসামি—নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ, তার ছোট ভাই এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন হওয়ায় মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। গত বছরের ২১ মে নথি উচ্চ আদালতে পাঠানোর পর যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়।

পেপারবুক প্রস্তুত শেষে গত ৮ জুন মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরে বিশেষায়িত বেঞ্চে মামলাটির ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে হাইকোর্ট হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এ আর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!