আখ লিভারের সমস্যা দূর করে
আখ আমাদের সবার পরিচিত এবং এটি চিবিয়ে খেতে আমরা অনেকে পছন্দ করে থাকি। আখ বা ইক্ষু বা কুসার নামেও পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম Saccharum officinarum।
আখ পোয়াসি পরিবারের একটি সপুষ্পক উদ্ভিদ। এর রস চিনি ও গুড় তৈরির জন্য ব্যবহার হয়। আখ শব্দের উৎপত্তি ‘ইক্ষু’ থেকে। আখ হচ্ছে বাঁশ ও ঘাসের জাতভাই।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি আখ উৎপাদিত হয় নাটোর জেলায়। এটি আমাদের দেশের অন্যতম একটি অর্থকরী ফসল। আখের উপকারীতার কথা বলে শেষ করা যাবে না।
উপকারিতা
(১) আখ আমাদের লিভারের সমস্যা দূর করে। কারণ আখে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বিভিন্ন ইনফেকশনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আমাদের ইউমিন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে তোলে। একইসঙ্গে এটি আমাদের লিভার ইনফেকশন কমায় এবং বিলিরুবিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। আখ শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখে।
(২) আখে আছে প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম। যা মানবদেহে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। ফলে আমাদের হজম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয় এবং হজমের সমস্যা দূর হয়। এছাড়াও এতে প্রাকৃতিক চিনি থকায় এবং অন্যান্য চিনির তুলনায় এতে গ্লাইসেমিন ইনডেক্স অনেক কম থাকায় থাকায় এটি ডায়বেটিস রোগির জন্য বেশ উপকারী।
(৩) ফেব্রাইল ডিজঅর্ডার বা উচ্চমাত্রায় জ্বর এর সমস্যা সমাধানে আখ অনেক উপকারী। একইসঙ্গে এটি আমাদের প্রোটিনের ক্ষতি পূরণে সাহায্য করে। আখে ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, আয়রন ও ম্যাংগানিজ থাকায় এটি আমাদের পানি শূন্যতা এবং ইলেক্ট্রোলাইটের সমস্যা দূর করে।
৪। দাঁত দিয়ে আখ ছিলে খেলে আমাদের দাঁত শক্ত হয়। নিঃশ্বাসের দূর্গন্ধ দূর হয়। এছাড়াও এতে থাকা ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস আমাদের দাঁতের এনামেল ভালো রাখে এবং দাঁতের ক্ষয় রোধ করে।
(৫) আখে প্রচুর পরিমাণে হাইড্রক্সি অ্যাসিড থাকায় এটি ত্বকের জন্য ভীষণ উপকারী। এটি আমাদের মুখের ব্রণ এবং বলিরেখা কমায়। আখ খেলে আমাদের ত্বক সজীব এবং সতেজ থাকে। কারণ এটি ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখে।
(৬) আখ খেলে আমাদের রক্তে মিশে থাকা খারাপ কোলেস্টরলের পরিমাণ কমে যায়। ফলে আমাদের হার্ট ভালো থাকে এবং বিভিন্ন হার্ট ডিজিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে।