রোজায় যা খাবেন, যা খাবেন না
রোজা পালন করতে গিয়ে নানা রকম শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এর অন্যতম প্রধান কারণ ‘ভুল খাবার’। রোযার সময় আমাদের খাবারের ব্যাপারে একটু সতর্কতা পালন করা দরকার।
এ বিষয়ে ডেইলি বাংলাদেশের ঝালকাঠি প্রতিনিধি আতিকুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেছেন স্পাইন ও অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ও জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জন ডা. মো. ফেরদৌস রায়হান।
তাহলে চলুন জেনে নেই রোযার মাসে আমরা কোন কোন খাবার খাব, আর কোন কোন খাবার খাব না।
যা খাবেন
পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
প্রচুর পরিমাণে তাজা ফলমূল খাবেন।
বাসায় তৈরি লেবুর শরবত, ডাবের পানি, কাঁচা ছোলা, কম তেলে ভাজা ছোলা এবং সালাদ খাবেন।
আপনার যদি একেবারেই ভাজা-পোড়া ছাড়া নাই চলে তবে অবশ্যই বাসায় তাজা তেলে ভাজা পিঁয়াজু, বেগুনি অথবা আলুর চপ এর থেকে যেকোনো একটি খেতে পারেন। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন সেটা যেন হালকা তেলে ভাজা হয়। এখানে আরেকটা বিষয় খেয়াল রাখবেন। আপনি যতোটুকু ভাজাপোড়া খাচ্ছেন তার ডাবল পরিমাণে সালাদ খাবেন।
রোযার মাসে কোনোভাবেই খেজুর খেতে ভুলবেন না।
ডাল জাতীয় প্রোটিন ক্লান্ত পেশিকে সতেজ করতে সাহায্য করে। তাই আপনার রমজানের খাদ্য তালিকায় ডাল রাখুন।
সাহরিতে পোলাও, বিরিয়ানি, ভুনা খিচুড়ি বা আতপ চালের খাবার এড়িয়ে চলুন। এ জাতীয় খাবার হজমে প্রচুর পানির দরকার হয়। এতে করে আপনার শরীর পানিশূন্য হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে।
কেউ কেউ আছেন যারা ইফতার করে রাতে আর কিছু খান না। একেবারে সাহরিতে গিয়ে খান। এটা করা যাবে না। রাতে অল্প হলেও কিছু খেতে হবে। যেমন অল্প একটু ভাত নিলেন সাথে ছোট মাছ বা যে কোনো মাছ আর কিছু শাকসবজি।
সাহরিতে শাকসবজি না খাওয়া ভালো। বরং মাংস, ডিম, ঘন ডাল এগুলো দিয়ে আপনি সাহরি করে নিবেন।
সাহরিতে পেট ভরে খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। চেষ্টা করবেন সাহরিতে এক কাপ দুধ খাওয়ার। কারণ দুধ আপনাকে অনেকক্ষণ শক্তিশালী রাখবে।
যা খাবেন না:
বাইরে থেকে আনা ভাজাপোড়া, শরবত, বিট লবণ দিয়ে মাখা ফল খাবেন না।
কোমল পানীয় খাবেন না।
অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার বা কাচা লবণ খাবেন না।
সাহরিতে অনেকে চা, কফি পান করেন। এটা করবেন না। এতে বারবার মূত্রত্যাগের বেগ আসবে এবং আপনার শরীর খুব তাড়াতাড়ি পানিশূন্য হয়ে যাবে।
রেস্টুরেন্ট থেকে আনা বিভিন্ন ভারি খাবার এড়িয়ে চলুন।
স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন। সুস্থ থাকুন।
ডা. মো. ফেরদৌস রায়হান
স্পাইন ও অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ও জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জন।
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড, বরিশাল।