ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

[ ফিচার ]

৪ হাজার বছর আগে প্রাচীন মিশরে ছিল বানর স্কোয়াড

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭:২৬, ৬ জানুয়ারি ২০২১
৪ হাজার বছর আগে প্রাচীন মিশরে ছিল বানর স্কোয়াড
প্রাচীন মিশরে অপরাধী ধরতে ছিল বানর স্কোয়াড

বর্তমান বিশ্বে অপরাধীদের ধরতে ডগ স্কোয়াডের ব্যবহার অনেক বেশি। সব দেশেই পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর কাছে প্রশিক্ষিত কুকুর রয়েছে। এদের কাজ হচ্ছে গন্ধ শুকেই অপরাধী এবং অবৈধ জিনিস খুঁজে বের করা। সাধারণত ডগ স্কোয়াডের মধ্যে থাকে জার্মান শেফার্ড ও ল্যাব্রাডর প্রজাতির কুকুর। এ প্রজাতির কুকুরগুলো খুবই ধূর্ত, সাহসী ও বুদ্ধিমান হয়। এদের যেভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় সেটা তারা অনুসরণ করতে সক্ষম। 

তবে বিংশ শতাব্দীতেই নয়, এটি চার হাজার বছর আগে মিশরে এর প্রচলন ছিল। প্রাচীন মিশরের পুলিশ প্রশিক্ষিত বানর দিয়ে চোর ধরতো। অপরাধীদের সনাক্ত করতেও ব্যবহার করতো বানর। কারণ বানর দ্রুত দৌঁড়ে ও লাফিয়ে চোরকে ধরে ফেলতো। চোর পালিয়ে গেলেও বানর মনে রাখতে পারতো চোরের চেহারা।

মিশরের বানর স্কোয়াডপ্রাচীন মিশরের ওল্ড কিংডমের পঞ্চম রাজবংশের সময় খ্রিস্টপূর্ব ২৬১৩ থেকে ২১৮১ সালের মধ্যে কোনো পুলিশ বাহিনী ছিল না। ওল্ড কিংডমের শেষ দিকে খ্রিস্টপূর্ব ২১৮১ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে গঠন করা হয় পুলিশ বাহিনী। মার্কেট, উপাসনালয় এবং পার্কের শৃঙ্খলা ও শান্তি রক্ষায় নিযুক্ত ছিল পুলিশ। একইসময়ে গঠন করা হয়েছিল সেনাবাহিনী। প্রত্যেক বাহিনীর ছিল একজন কমান্ডার ইন চিফ। সবার উপর ছিলেন ফারাও।

বানরকে দেয়া হত একজন সৈন্যের সম্মান একেকবার একেক ফারাও ক্ষমতায় আসতেন। আর নিজের জন্য নতুন করে সেনাবাহিনী গঠন করতেন। এদের কাজ ছিল মূলত ফারাও এর নির্দেশ মানা। তার আদেশ মতেই সেনাবাহিনীরা কাজ করত।  

এমনিতেই মিশরদের পশুভক্তি ছিল অনেক বেশি। পূজা থেকে শুরু করে পোষ্য সব কিছুতেই বিভিন্ন প্রাণীকে প্রাধান্য দিতেন তারা। বিভিন্ন ফারাও এর মমির সঙ্গে পাওয়া গেছে অনেক পশুপাখির মমি। এর মধ্যে আছে ঈগল, বানর, কুকুর, বিড়াল, সাপ, এমনকি কুমিরও। বানরকে যে শুধু অপরাধী ধরতে ব্যবহার করা হত, তা কিন্তু নয়। বানরগুলোকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় নাচের। এরা বাদ্য বাজানো এবং এর তালে তালে নৃত্য পরিবেশন করত ফারাওদের মনোরঞ্জন করতে। এছাড়াও বিয়ার তৈরিতে ব্যবহার করা হত বানরদের। এছাড়াও উঁচু গাছ থেকে ফল পাড়ার কাজও করত এরা। বেশ বুদ্ধিমান প্রাণী হওয়ায় মিশরীয়রা এর সর্বাত্নক ব্যবহার করেছিল। 

উঁচু গাছ থেকে ফল পাড়ার কাজ করত বানররা বানর কিন্তু মিশরের প্রাণী ছিল না। বন জঙ্গল কম থাকায় খুব বেশি বানর দেখা যেত না এখানে। বেশিরভাগ বানরই তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করত। বানরের মাথায় অর্ধচন্দ্রের মুকুট পরানো হত। অর্থাৎ এরা ছিল চাঁদের দেবতার অনুরূপ। হাইকারাকনপোলিসে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা একটি পোষা প্রাণীদের কবরস্থান পেয়েছিলেন। যেটি প্রায় ৫ হাজার বছর আগেকার। সেখানে তারা অনেকগুলো বানরের কবর পেয়েছিলেন। 

সূত্র: অ্যান্সাইন্ট অরিজিন 

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেএসকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!