ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ শিক্ষা ]

গিনেস বুকে নাম লেখালেন চবির প্রেনচ্যুং

চবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৩৯, ৫ নভেম্বর ২০২২
গিনেস বুকে নাম লেখালেন চবির প্রেনচ্যুং
প্রেনচ্যুং ম্রো। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পা দিয়ে এক মিনিটে সর্বোচ্চ ২০৮ বার ফুটবল ট্যাপ (Toe ap) করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন প্রেনচ্যুং ম্রো। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত। শুধু চবি শিক্ষার্থী হিসেবেই নয় পাহাড়ি তরুণ হিসেবেও প্রথমবারের মতো এমন অর্জন।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস থেকে পাঠানো স্বীকৃতিমূলক ই-মেইল গত বুধবার (২ নভেম্বর) হাতে পেয়েছেন তিনি।

প্রেনচ্যুং ম্রোর জন্ম বান্দরবান সদরের ৪ নম্বর সুয়ালক ইউনিয়নের লামার পাড়ায়। ২ ভাই আর ৩ বোনের মধ্যে সবার ছোট প্রেনচ্যুং।

এর আগে এক মিনিটে সবচেয়ে বেশি বার পা দিয়ে ফুটবল ট্যাপ করার রেকর্ডটি ছিল ঢাকার মুন্তাকিমুল ইসলাম নামে এক যুবকের। তিনি ১ মিনিটে ২০৭ বার ফুটবল ট্যাপ করেছিলেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এই রেকর্ডটি করেন তিনি। বর্তমানে ৩০ সেকেন্ডে সর্বোচ্চবার (১০৭ বার) ফুটবল ট্যাপ করার রেকর্ডটিও তার দখলে।

প্রেন চ্যুং বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির দিকে এই গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড ব্যাপারটা আমার মাথায় আসে। দেখলাম, বাংলাদেশে সর্বোচ্চ গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডধারী কনক কর্মকারের ভিডিও। তারপর ভাবলাম আমিও চেষ্টা করে দেখি। প্রথমে সহজ ক্যাটাগরি থেকে একটা বেছে নিয়েছি যেটার নাম ছিল Most football (soccor) Toe taps in One mins । ফুটবলার হিসেবে এই রেকর্ডটা কঠিন ছিল না। টুকটাক ফুটবল ফ্রিস্টাইল করতে পছন্দ করতাম। ভিডিও বানাই নিজের পেইজে ছেড়ে দিতাম। ২ দিন প্র‍্যাক্টিস করে ভিডিও বানিয়ে ফেললাম। তারপর গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড আবেদন করলাম। ১মাস পর সাড়া দেয় তারা। এভাবে আরো ১মাসে পর প্রয়োজন কাগজপত্র সাবমিট করতে বলে।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন প্রেনচ্যুং ম্রো।

তবে সহজ ছিল এই যাত্রা। প্রেন চ্যুং জানালেন, গত ৩ মে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ‘মোস্ট ফুটবল (সকার) টু ট্যাপস ইন ওয়ান মিনিটস’ ক্যাটাগরিতে কুমিল্লার কনক কর্মকারের রেকর্ড ভঙ্গ করার আবেদন জানিয়ে চ্যালেঞ্জ করেন। আবেদনের প্রায় এক মাস পর গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ সাড়া দেয়। তারা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের নির্দেশনা জানায়। সেই নির্দেশনা মেনে গত ২৪ এপ্রিল তিনি ১ মিনিটে পা দিয়ে সর্বোচ্চবার (২০৮) ফুটবল ট্যাপ করার ভিডিও করে ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি সংযুক্ত করে গিনেস কর্তৃপক্ষকে পাঠান। এর মধ্যে আবার ঢাকার মুন্তাকিমুল ইসলাম কনক কর্মকারের রেকর্ড (১৯৭ বার) ভেঙে ১ মিনিটে ২০৭ বার ফুটবল ট্যাপ করে রেকর্ড করেন।

এরই মধ্যে পেরিয়ে যাগ দীর্ঘ ৬ মাসেরও বেশি সময়। কর্তৃপক্ষ সব যাচাই বাছাই করে গত বুধবার (২ নভেম্বর) তারা প্রেন চ্যোং ম্রোর রেকর্ডটির (১ মিনিটে ২০৮ বার) স্বীকৃতি দেন এবং গিনেসের ওয়েবসাইটে রেকর্ডটি অন্তর্ভুক্ত করেন। তবে স্বীকৃতিপত্র হাতে পেরে আরো কিছুদিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রেন চ্যুং।

তিনি বলেন, ২০২০-২১ সিজনে ঢাকায় প্রথমবারের মতো বিসিএল খেলার সুযোগ পাই। আর ২০২১ মৌসুমে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবে চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার লিগ খেলা শুরু করি। সে বছরেই ব্রাদার্স ইউনিয়ন চ্যাম্পিয়ন হয়। পাশাপাশি জেলা টিম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের টিমে খেলছি। ২০১৮ সালে কুষ্টিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় টিম দ্বিতীয় রানার আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করি।

বান্দরবানের ১১ টি জাতি গোষ্ঠীর মধ্যে ম্রো জাতি একটি। সেই জাতির একজন প্রেন চ্যুং।  

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
ট্যাগ: চবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!