ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ শিক্ষা ]

হয়রানির প্রতিবাদে একাই দাঁড়ালেন ঢাবি শিক্ষার্থী

ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:৩৭, ৩০ আগস্ট ২০২২
হয়রানির প্রতিবাদে একাই দাঁড়ালেন ঢাবি শিক্ষার্থী
হয়রানির প্রতিবাদে প্লাকার্ড হাতে ঢাবি শিক্ষার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রশাসনিক ভবনে শিক্ষার্থী হয়রানি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের (রেজিস্ট্রার ভবন) সামনে একাই অবস্থান কর্মসূচিতে দাঁড়িয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ।

প্রশাসনিক সব কার্যক্রমে ডিজিটালাইজেশনসহ ৮ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তিনি। মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে তিনি ৮ দফা দাবিতে এ কর্মসূচি শুরু করেন।

হাসনাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ও বিজয় একাত্তর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

তার হাতে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশে সনাতন পদ্ধতিতে ছাত্র হয়রানি বন্ধ হোক’, ‘লাঞ্চের পরে আসুন সুলভ আচরণ বন্ধ করুন, পেশাদারিত্ব বজায় রাখুন’, ও ‘আমরা গোলাম নয়! আমরা ছাত্র আপনাদের ঝাড়ি শুনতে আসিনি, সেবা নিতে এসেছি’ ইত্যাদি প্যাকার্ড দেখা যায়।

কর্মসূচি শেষে তিনি ৮টি দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের কাছে প্রদান করেন। আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে উপাচার্যকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের আল্টিমেটাম দেন তিনি। 

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গতবছরই তার গৌরবময় শতবর্ষ পূর্ণ করেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ ১০১তম বছরে এসেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক জটিলতাজনিত হয়রানি কমেনি। এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, হল অফিস ও বিভাগীয় অফিসের মধ্যে কাজের সমন্বয়হীনতার প্রবল অভিযোগ রয়েছে। কর্মকর্তাদের গাফলতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র হারানোর খবর শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাঝেমধ্যেই শোনা যায়। এটি ডিজিটাল যুগে সনাতনী নির্যাতনের নামান্তর। 

তিনি আরো বলেন, রেজিস্ট্রার ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বেচ্ছাচারিতা এবং নিয়মানুবর্তিতায়ও অনেক ঘাটতি রয়েছে। কাজে দীর্ঘসূত্রিতা করা তাদের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজের ব্যাপারে তাদের অলসতা এবং দায়মুক্তির খবর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘লাঞ্চের পর আসুন সুলভ’ আচরণ হিসেবে সর্বজনবিদিত। 

কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অফিস চলাকালে অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস টাইমে নির্বাচনী প্রচারণাসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। অনেকে অফিস টাইমে নিজস্ব ব্যবসায় সময় দেন। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের আচরণ মনিব-গোলাম পর্যায়ের। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান। 

তার ৮ দফা দাবি হলো-

শিক্ষার্থীদের হয়রানি নিরসনের জন্য ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকল্পে শিক্ষক ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অভিযোগ সেল গঠন করতে হবে। যেখানে সেবাগ্রহীতারা সুনির্দিষ্ট প্রমাণাদির ভিত্তিতে অভিযোগ জানাতে পারেন।

প্রশাসনিক সব কার্যক্রম অনতিবিলম্বে ডিজিটাইজড করতে হবে। নিরাপত্তা ও হারিয়ে যাওয়া কাগজপত্র তদন্তের স্বার্থে অফিসসমূহে প্রতিটি কক্ষে পর্যাপ্ত পরিমাণে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। প্রশাসনিক ভবনে অফিসসমূহের প্রবেশদ্বারে ডিজিটাল ডিসপ্লে স্থাপন করতে হবে। ডিসপ্লেতে অফিসসমূহের নাম, কক্ষ নম্বর ও সেখানে প্রদত্ত সেবার বিবরণী, কর্তব্যরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নাম ও ছবিসহ প্রয়োজনীয় তথ্যাবলি প্রদর্শন করতে হবে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসনিক ভবনের ক্যান্টিনেরও সংস্কার করতে হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আধুনিক সাচিবিক-বিদ্যা, পেশাদারত্ব, মানুষিক ও আচরণগত প্রশিক্ষণ আইন করে বাধ্যতামূলক করতে হবে। প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত মানসিক সেবা প্রদানকারী বিভাগ ও সেন্টারসমূহের শরণাপন্ন হতে হবে।

অফিস চলাকালীন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ব্যক্তিগত, ব্যবসায়িক কিংবা রাজনৈতিক কোনো কাজেই লিপ্ত থাকতে পারবেন না। সে নিরিখে প্রশাসনিক ভবনের অভ্যন্তরে অবস্থিত কর্মচারী ইউনিয়ন অফিস বাধ্যতামূলকভাবে তাদের ক্লাবসমূহে স্থানান্তর নিশ্চিত করতে হবে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনকালীন প্রচারণা পরিবেশবান্ধব করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ বজায় রাখতে, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য হানিকর ও পরিবেশ বিপর্যয়কারী অপ্রয়োজনীয় পোস্টার লিফলেট ও ব্যানার ব্যবহার আইন করে নিষিদ্ধ করতে হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরআই
ট্যাগ: ঢাবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!