ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ শিক্ষা ]

হাতির কবর: হাজারো প্রেম-বিচ্ছেদের সাক্ষী

মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:১১, ১৪ আগস্ট ২০২২
হাতির কবর: হাজারো প্রেম-বিচ্ছেদের সাক্ষী
টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতির কবর। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) প্রথম ফটক পার হয়ে হাতের বামেই সবুজ বৃক্ষে ঘেরা সুবিশাল দিঘী। দিঘীর কাছেই লাল রঙ দিয়ে বাঁধানো একটি জায়গা। মাঝখানে দূর্বাঘাস, তার পাশ দিয়ে সারি সারি বসার বেঞ্চ। জায়গাটি ক্যাম্পাসের সবার কাছে পরিচিত ‘হাতির কবর’ নামে।

ক্যাম্পাসে কেউ ঘুরতে এলে হাতির কবরে বসেন ও সেখানকার পরিবেশ অবলোকন করেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরাও তাদের অবসর সময়ে অবস্থান করেন সেখানে। বেঞ্চগুলোতে ও মূল বেদিতে বসে কেউ বই পড়েন, কেউ কেউ একই ক্লাসের বন্ধুদের সঙ্গে গ্রুপ স্টাডি করেন।  ক্লাসের ফাঁকে বন্ধুদের নিয়ে চটপটিও খায় অনেকে। সেখানে বসে মোবাইলে সেলফি তোলেন অনেকে। অনেক প্রেমিক-প্রেমিকা সেখানে বসে মধুর প্রেমও মজেন। বেঞ্চগুলোতে বসে মনের ভাব আদান-প্রদান করেন।  পক্ষান্তরে অনেকের প্রেমের বিচ্ছেদও ঘটে এই  জায়গা থেকেই। হয়তো একে অপরের মনোমালিন্য, বা দুজনের মধ্যে একজনের বিয়ে ঠিক হওয়া। এমন অনেক কিছুর নীরব সাক্ষী যেন এই পুকুর পাড়ের বেঞ্চগুলো। হাতির কবরের কংক্রিটের বেঞ্চগুলোতে জমে উঠে সুখ-দুঃখ, পাওয়া না পাওয়ার গল্পগুলো। নতুন প্রেমের সূচনা যেমন এখানে হয়েছে, তেমনি তাদের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বিষাদের নীরব সাক্ষী যেন এই হাতির কবর।

অজস্র প্রেমের প্রণয় যেমন হয়েছে এখানে, তেমনি বিচ্ছেদের ঘটনাও কম ঘটেনি। কেউ কেউ হতাশার চাদরে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন, কেউ শোককে শক্তি করে লাইব্রেরিতে নিজের বাকি সময় কাটিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। 

আদিব রহমান রাহাত নামে এক শিক্ষার্থী জানালেন, ‘আমার পছন্দের মানুষটির সঙ্গে এই হাতির কবরের সামনেই প্রথম কথা হয়, দুজনে মিলে বেঞ্চে বসে চটপটিও খেয়েছি অনেক। এখন সেই মেয়েটিই আমার সহধর্মিণী। আমরা দুজন এক হতে পেরে খুব খুশি।’

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতির কবর। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

হাতির কবরের স্মৃতিচারণ করে মাভাবিপ্রবির সাবেক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি তখন বেকার, প্রেমে পড়েছিলাম, হাতির কবরে তার সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি। পরিবার মেনে নেবে না বিধায় সে আমায় ছেড়ে অন্যকে বিয়ে করে। এখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছি। তবুও মাঝেমধ্যে যখন আমার টাঙ্গাইলে আসার সুযোগ হয়, ক্যাম্পাসে ছুটে আসি স্মৃতিমাখা জায়গাটা দেখতে।’

দেখা হলো মধ্যবয়সী এক দম্পতির সঙ্গে। তারা জানালেন, ‘কর্মসূত্রে টাঙ্গাইলে থাকা হয়। মাঝেমধ্যে যখন সুযোগ হয়, পরিবারের সবাইকে নিয়ে ক্যাম্পাসে আসি, যেহেতু এই জায়গায় গাছের ছায়া থাকে সবসময়, অনেক বাতাসও থাকে, তাই আমরা এখানে বসে কিছু সময় কাটাই। বাদাম, আইসক্রিম, চটপটি ও খাওয়া যায়। সামনে এত বড় পুকুর, মাথার ওপরে গাছের ছায়া, এজন্য হয়তো এখানে বসে অবসর সময় কাটাই।

হাতির কবর জায়গাটির নামকরণের পেছনে রয়েছে এক রহস্য। জানা যায় যে, জায়গাটিতে একটি বড় অশ্বত্থ গাছ ছিল। মানুষেরা সেখানে বিশ্রাম করতেন। একদিন গাছটি ঝড়ে ভেঙ্গে যায়, পরবর্তীতে জায়গাটিতে ইট, সিমেন্ট দিয়ে পাকা করা হয়। পরে মানুষের মুখে মুখে জায়গাটির নাম হাতির কবর বলে প্রচলিত হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!