ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ শিক্ষা ]

বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে লটারি! 

ঢাবি প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ১৫:১৪, ১৪ ডিসেম্বর ২০২১
বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে লটারি! 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে পুস্পস্তবক অর্পণ করতে  লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে।

বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ যেতে ইচ্ছা প্রকাশ করে হল অফিসে নাম জমা দিয়েছিলেন হলের ২১০ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু সেখান থেকে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করে ৪০ জন ছাত্রী ফুল দিতে নিয়ে যাওয়া হয় স্মৃতিসৌধে। এতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় হলের অন্যান্য ছাত্রীদের মধ্যে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা দেয় নানা সমালোচনা। এছাড়া বিজয় দিবসে শ্রদ্ধা জানাতে নাম জমা দিয়েছেন ২৭২ জন।

গতকাল (সোমবার) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল অডিটোরিয়ামে ২১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে ৪০ জনকে বাছাই করা হয়। পরে এ নিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করে হল প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এতদ্বারা বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের ছাত্রীদের জানানো যাচ্ছে যে, যারা ১৪ ডিসেম্বর মিরপুরে যাওয়ার জন্য নাম দিয়েছেন, তাঁদের (সিরিয়াল ১-২১০) আজ (সোমবার) ৯.০০ মিনিটে হল অডিটোরিয়ামে সমবেত হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। উক্ত সময়ে লটারির মাধ্যমে ৪০ জন ছাত্রীকে নির্বাচিত করা হবে। যারা ৯.৩০ মিনিটে উপস্থিত থাকবেন না, তাদের সিরিয়াল লটারিতে এলেও নির্বাচিত হবে না। 

ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা জানান, শহীদ বুদ্ধিজীবীরা আমাদের জাতির গর্ব, এ দিবস আমাদের সকলের। তাই আমরা তাদের সশরীরে গিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে হল অফিসে নাম জমা দিয়েছি। কিন্তু হল প্রশাসন বাস সংকটের অজুহাতে আমাদের সেখানে নিয়ে যায়নি। লটারিতে ৪০ জনকে নির্বাচিত করে তাদের নিয়ে গেছে। ফলে বাকি অসংখ্য শিক্ষার্থী শ্রদ্ধা জানানো থেকে বঞ্চিত হয়েছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হলের একজন আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, বিষয়টি আমাদের খুব খারাপ লাগছে। এভাবে লটারি দিয়ে শ্রদ্ধার বিষয়টি সংকীর্ণ করা হয়েছে। আমাদের যে আশা ছিল শ্রদ্ধা জানানোর, সেটা পারলাম না। 

লটারির মাধ্যমে বাছাই করে শ্রদ্ধা জানাতে নিয়ে যাওয়ার বিষয় স্বীকার করে অধ্যাপক ড. নাজমুন নাহার বলেন, আমি পরিবহন ম্যানেজারের কাছে বলেছিলাম, ডাবল ডেকের দুটি বাস যেন আমাদের হলের জন্য দেওয়া হয়, কিন্তু গতকাল (সোমবার) বিকেলের দিকে জানতে পারি ৫৩ জন বসার মতো একটি বাস দেওয়া হবে। তখন তাৎক্ষণিকভাবে আমি প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল বাছিরকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং হলের আবাসিক শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। 

প্রভোস্ট আরও বলেন, কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়া আমরা শ্রদ্ধা জানিয়ে আসতে পেরেছি। আমাদের শিক্ষার্থীদের ইতিবাচকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। অন্যান্য হলে যেখানে শিক্ষার্থীদের পাওয়া যায় না, সে জায়গায় আমাদের হলে লটারি করে নিয়ে যেতে হলো বাস সংকটের কারণে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!