৭ বছরে কুলি থেকে কোটিপতি!
মোহাম্মদ ইউসুফ। এক সময় কুলি হিসেবে কাজ করতেন চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে। পরবর্তীতে মাদক কারবারে জড়িয়ে হয়ে ওঠেন কোটিপতি। বর্তমানে তিনি তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিদের একজন।
অভিযোগ ছিল- অবৈধ আয়ে দুইশ’ কোটি টাকার মালিক ইউসুফ। তবে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে মিলেছে প্রায় তিন কোটি টাকার সম্পদের তথ্য। ফলে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। রোববার (৯ জুন) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি করেন সংস্থাটির উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল মাজেদ। দুদক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কাগজপত্রে মহিনী ট্রান্সপোর্ট ও মহিনী পোল্ট্রি ফার্ম নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিক মোহাম্মদ ইউসুফ। দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণী যাচাই ও পর্যালোচনা করে দেখা যায়- তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দুই কোটি ৮২ লাখ ৯৮ হাজার ৪৪৬ টাকা। ২০১৫-১৬ করবর্ষ থেকে ২০২২-২০২৩ করবর্ষ পর্যন্ত গৃহসম্পত্তি খাতে অর্থাৎ বাড়িভাড়া খাতে মোট ৩৩ লাখ ৬২ হাজার ৭৭০ টাকা আয় প্রদর্শন করে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন ইউসুফ।
একই সময়ে তার পারিবারিক ব্যয় ও আয়কর প্রদান খাতে মোট ৪৪ লাখ ৬৭ হাজার ৮৯৬ টাকা ব্যয় দেখানো হয়। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের পেছনে উৎস হিসেবে মহিনী মৎস্য খামারের আয় ৮২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৩২ টাকা, মহিনী ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির আয় ১৬ লাখ ৭১ হাজার ৬৬৭ টাকা, মহিনী পোল্ট্রি খামারের আয় এক কোটি ৪৪ লাখ ৬৩ হাজার ৩৭ টাকা ও মহিনী ডেইরি ফার্মের আয় ২৫ লাখ ৯৫ হাজার ৪৮৬ টাকা এবং গৃহসম্পত্তি (বাড়ি ভাড়া) খাতে আয় ৩৩ লাখ ৬২ হাজার ৭৭০ টাকা প্রদর্শন করেন। এসব খাতে সর্বমোট চার কোটি ২৭ লাখ ৯২ হাজার ৮৯২ টাকা আয়ের উৎস দেখান তিনি।
কিন্তু সরেজমিন পরিদর্শনে মোহিনী ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও মোহিনী মৎস্য খামার, মোহিনী পোল্ট্রি খামার ও মোহিনী ডেইরি ফার্মের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ফলে মোহিনী ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির আয় ও গৃহ সম্পত্তির মোট ৫০ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩৭ টাকা বৈধ হিসেবে মেনে নেয় দুদক। কিন্তু অবশিষ্ট দুই কোটি ৭৭ লাখ ৩১ হাজার ৮০৫ টাকার কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি ইউসুফ। যা জ্ঞাত বহির্ভূত বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়।
জানা গেছে, ইউসুফ কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। সাত বছর আগেও চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে কুলির কাজ করতেন তিনি। বর্তমানে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক ইউসুফ রয়েছেন চট্টগ্রামের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিদের শীর্ষে।
এ বিষয়ে কথা বলতে ইউসুফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।