ঢাকা,  শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

কুকুরের ছোটাছুটিতে মিলল ৩ লাশের সন্ধান, জানা গেল নৃশংসতার রহস্য

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:১৫, ২২ মে ২০২৪
কুকুরের ছোটাছুটিতে মিলল ৩ লাশের সন্ধান, জানা গেল নৃশংসতার রহস্য
ছবি: সংগৃহীত

মঙ্গলবার (২১ মে) সকাল। ওই সময় রাস্তার পাশে শিশুর একটি হাত দেখেন সোহরাব নামে এক ব্যক্তি। পরে কাউকে কিছু না জানিয়ে সেখানেই হাতটি মাটিচাপা দিয়ে চলে যান। দুপুরে মেহেদী ও সাব্বির নামে দুই যুবক নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে যাওয়ার পথে দুর্গন্ধ পান। এ সময় তারা দেখেন মসজিদের পশ্চিমে ধানক্ষেতের পাশে কিছু একটা নিয়ে কয়েকটি কুকুর টানাটানি করছে। এগিয়ে গিয়ে দেখেন, দুই স্থানে দুটি শিশুর লাশের খণ্ডিত অংশ পড়ে আছে। তারা একটু সামনে এগিয়ে দেখেন, পাশের একটি গর্তের মধ্যে থেকে এক নারীর হাত বের হয়ে আছে। তাদের চিৎকারে সেখানে লোকজন জড়ো হন। খবর পেয়ে নারী ও তার দুই সন্তানের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। 

ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের কাকচর নয়াপাড়া গ্রামে। নিহতরা হলেন- উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের কাকচর নয়াপাড়া গ্রামের আলী হোসেনের স্ত্রী আমেনা বেগম, তার চার বছরের ছেলে আবু বক্কর ও দুই বছরের ছেলে আনাস। আলী হোসেন ওই গ্রামের আবদুল হামিদের ছেলে। ঘটনার পর থেকে ওই নারীর স্বামী আলী হোসেন পলাতক রয়েছেন। পুলিশের ধারণা, স্ত্রী ও দুই শিশুপুত্রকে হত্যার পর পুঁতে রেখে পালিয়ে গেছেন তিনি।

জানা গেছে, নিহত আমেনা বেগম সাখুয়া ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামের আবদুল খালেকের মেয়ে। ছয় বছর আগে আলী হোসেনের সঙ্গে ফুফাতো বোন আমেনার বিয়ে হয়। আমেনা অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতেন। আলী হোসেন কোনো কাজ করতেন না, ঘুরে বেড়াতেন। একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়েছিল সে। ঋণের কিস্তির জন্য প্রায় সময় আমেনাকে চাপ দিত। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে গার্মেন্টসে যাওয়ার কথা বলে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে বিদায় নেন আমেনা। এরপর রাত থেকে দুই সন্তানসহ তার খোঁজ মিলছিল না। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলের ২০০ থেকে ৩০০ মিটার দূরে পার্শ্ববর্তী কাজিগ্রামের রাস্তার পাশে সোহরাব নামে ব্যক্তি শিশুর একটি হাত দেখেন।

 এ সময় আশপাশে কয়েকটি কুকুরও ঘুরতে দেখেন তিনি। পরে কাউকে কিছু না জানিয়েই সেখানে হাতটি মাটিচাপা দিয়ে চলে যান সোহরাব। দুপুরের দিকে মেহেদী ও সাব্বির নামে দুই যুবক নামাজ আদায়ের জন্য কাকচর নয়াপাড়া গ্রামের হাইঞ্জা মড়লের বাড়ির দক্ষিণ পাশের মসজিদে যাওয়ার পথে দুর্গন্ধ পান। এ সময় তারা দেখেন মসজিদের পশ্চিমে ধানক্ষেতের পাশে কিছু একটা নিয়ে কয়েকটি কুকুর টানাটানি করছে। এগিয়ে গিয়ে দেখেন, দুই স্থানে দুটি শিশুর লাশের খণ্ডিত অংশ পড়ে আছে। তারা একটু সামনে এগিয়ে দেখেন, পাশের একটি গর্তের মধ্যে থেকে এক নারীর হাত বের হয়ে আছে। তাদের ডাকাডাকিতে সেখানে লোকজন জড়ো হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ত্রিশাল থানার পুলিশ।

বিকেলে ঘটনাস্থলে যান পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তার ও জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) শামীম হোসেনসহ র‍্যাবের একটি দল। এরপর মাটি খুঁড়ে ওই নারী এবং আশপাশে ছড়িয়ে থাকা দুই শিশুর খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বিকেলে তিনটি লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পরে পরিচয় শনাক্তে আশপাশের এলাকায় তদন্ত শুরু করে। রাত ৯টার দিকে তাদের পরিচয় মেলে।

ত্রিশাল থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, নিহত আমেনা মানুষের বাড়িতে কাজ করতেন। কিন্তু তার স্বামী গার্মেন্টসে কাজে নেয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে তাকে হত্যা করেন। পরে লাশ পুঁতে রাখেন। তবে তাকে (আলী হোসেন) গ্রেফতারের পর বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!