ঢাকা,  শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]
ওমানে অগ্নিকাণ্ডে নিহত হোসেন

‘বেশি লাভের আশায় ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছি, আজ সব শেষ’

চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:৩৩, ১৫ মার্চ ২০২৪
‘বেশি লাভের আশায় ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছি, আজ সব শেষ’
মা নুরজাহানের আহাজারি। ইনসেটে হোসেন মিয়াজী

ওমানে অগ্নিকাণ্ডে নিহত চাঁদপুরের শাহরাস্তির হোসেন মিয়াজীর বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। একমাত্র ছেলে ও পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎসকে হারিয়ে নির্বাক বৃদ্ধ আব্দুস সালাম। মা নুরজাহানের কান্নায় ভারি হচ্ছে আশপাশের পরিবেশ। এদিকে তাকে বিদেশে পাঠানোর সময় এনজিও থেকে নেয়া ঋণ যেন তাদের কাছে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিহত হোসেন মিয়াজী ওমানের উত্তরাঞ্চলীয় শহর বুরাইমির একটি সোফা কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত সোমবার ভোরে ওই কারখানায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে নিহতদের মধ্যে তিনি একজন। তিনি চাঁদপুরের শাহরাস্তি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নিজমেহার গ্রামের যোগী বাড়ির আব্দুস সালামের একমাত্র ছেলে।

পরিবারের সচ্ছলতার আশায় বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে ২০১৯ সালে বিদেশে পাঠানো হয় হোসেন মিয়াজীকে। করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে ঋণের দায় কাটিয়ে উঠতে পারেনি পরিবার। এমন পরিস্থিতিতে ছেলের মৃত্যুতে ঋণের দায় ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে ওই পরিবারের ওপর।

বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে সরেজমিন হোসেন মিয়াজীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার মা ও বোনেরা আহাজারি করছেন। বাবা আব্দুস সালাম নির্বাক। হোসেন নিহত হওয়ার খবরে তার বাড়িতে ভিড় করেছেন পাড়া-প্রতিবেশী ও স্বজনরা।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হোসেনের বাবা আব্দুস সালাম একসময় রিকশা চালাতেন। পরিবারের সচ্ছলতার আশায় ২০১৯ সালে হোসেন ওমান যান। করোনাকালীন বেকারত্ব ও কাগজপত্র বৈধ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৮ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে।

হোসেনের ছোট বোন মরিয়ম আক্তার বলেন, নিজের ভাইয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে শ্বশুরবাড়ি এলাকার এনজিও থেকে ঋণ এনে দিয়েছেন। একটি দুর্ঘটনা একমাত্র ভাইকে তো নিলই, সবাইকে পথে বসিয়ে দিল।

হোসেনের মা নুরজাহান বেগম বিলাপ করতে করতে বলেন, বেশি লাভের আশায় ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছি। আজ আমার সব শেষ। সরকার যেন আমার ছেলের লাশ দেশে এনে দেয়, শেষবারের মতো ছেলেকে দেখতে দেয়।

পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মিজানুর রহমান বলেন, এ মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হোসেন অত্যন্ত বিনয়ী ও কর্মঠ ছিল। তার লাশ দেশে আনতে পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!