ঢাকা,  শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

জব্বারের বলীখেলা: শেষ হচ্ছে রেফারি আবদুল মালেকের অধ্যায়

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:০৫, ২৫ এপ্রিল ২০২৩
জব্বারের বলীখেলা: শেষ হচ্ছে রেফারি আবদুল মালেকের অধ্যায়
ফাইল ফটো

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলার ১১৪তম আসর বসছে আজ। এ খেলাকে ঘিরে প্রতি বছরের মতো এবারো লালদীঘি মাঠের আশপাশের দুই বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে বৈশাখী মেলা। মেলা চলবে বুধবার পর্যন্ত।

বলীখেলার এবারের আসরে রেফারির দায়িত্ব পালন করবেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর আবদুল মালেক। তিনি আড়াই যুগের বেশি সময় ধরে এ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। 

জানা গেছে, এবারের আসর শেষে বলীখেলার রেফারি পদ থেকে অবসর নেবেন আবদুল মালেক। এরপর থেকে বলীখেলা ও মেলা পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।

আবদুল মালেক বলেন, আমি ফুটবল খেলোয়াড় ছিলাম। বদরপাতির আবদুল হামিদ আর আমি মিলে ব্রাদার্স ইউনিয়ন পরিচালনা করতাম। সেটি তখন বদরপাতির টিম ছিল। হামিদ সাহেব, নজরুল ইসলাম লেদু, ফয়েজ ও মামুনরা আমাকে বলীখেলায় নিয়ে যান। ১৯৮৯ সালে সহকারী রেফারি হিসাবে বলীখেলা পরিচালনা শুরু করি। ফয়েজ উল্লাহর মৃত্যু ও আরেকজন লন্ডনে চলে গেলে আমার ওপর পড়ে রেফারির দায়িত্ব।

রেফারির দায়িত্ব পালন করতে ভালো লাগে জানিয়ে আবদুল মালেক বলেন, জব্বারের বলীখেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জব্বার মিয়ার নাতি শওকত আনোয়ার বাদল বলেছেন- আমাকে আমৃত্যু রেফারির দায়িত্ব পালন করতে হবে। রেফারির দায়িত্ব পালন করতে দেখে দেশ ও দেশের বাইরে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আত্মীয়-স্বজন ফোন করেন, খুশি হন। এতে আমারও ভালো লাগে।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যুবকদের উদ্বুদ্ধ করতে ১৯০৯ সালে স্থানীয় বদরপাতি এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর বলীখেলা চালু করেন। এরপর থেকে প্রতি বাংলা বছরের ১২ বৈশাখ লালদীঘি মাঠে এ খেলার আয়োজন করা হয়। ব্যবসায়ী আবদুল জব্বারের নামানুসারে খেলাটির নাম রাখা হয় ‘জব্বারের বলীখেলা’।

এদিকে, বলীখেলা ও মেলাকে ঘিরে লালদীঘি এবং আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে নগর পুলিশ। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি লালদীঘি ও আশপাশের সাত পয়েন্টে মোতায়েন করা হয়েছে দুই শতাধিক অতিরিক্ত পুলিশ। পাশাপাশি রয়েছে সাদা পোশাকধারী পুলিশ। এছাড়া সীমিত করা হয়েছে লালদীঘি ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল।

মহামারি করোনার কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে জব্বারের বলীখেলা ও মেলার আয়োজন হয়নি। এরপর ২০২২ সালে আয়োজন করা হয়। সেবার বলীখেলা ও মেলা ব্যবস্থাপনায় খরচের দায়িত্ব নেন সিটি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

২০২২ সালে লালদীঘি মাঠের সংস্কারের কারণে রাস্তার ওপর মঞ্চ তৈরি করে বলীখেলা হলেও এবার থেকে ফের বলীখেলা ফিরেছে লালদীঘি মাঠেই।

আবদুল জব্বারের নাতি বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদল বলেন, ১৯৮৬ সাল থেকে বাপ-দাদার মাধ্যমে বংশ পরম্পরায় এ বলীখেলা ও মেলার আয়োজন করে যাচ্ছি। পুলিশ প্রশাসন সার্বিক সহায়তা করছে। এ বলীখেলা ও মেলা চট্টগ্রামবাসীর ঐতিহ্য।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!