ঢাকা,  শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

চাঁদপুরে শিশু হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:০১, ২৩ জানুয়ারি ২০২৩
চাঁদপুরে শিশু হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড
ফাইল ফটো

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় শিশু নাবিল রহমান ইমন হত্যা মামলার আসামি মো. শাহজালাল হোসেন সোহাগকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী ২০০৩) এর ৭ ও ৮ ধারায় পৃথকভাবে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় প্রত্যেক ধারায় পৃথকভাবে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরো ছয় মাস সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া দণ্ডবিধি ২০১ ধারায় তাকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরো তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত।

সোমবার দুপুরে মামলার রায় ঘোষণা করেন চাঁদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস চৌধুরী। হত্যার শিকার শিশু নাবিল ফরিদগঞ্জ বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নের মদনের গাঁও গ্রামের মো. মিজানুর রহমানের ছেলে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. শাহাজালাল হোসেন সোহাগ একই ইউনিয়নের খাড়খাদিয়া গ্রামের মো. শাহজাহান মেকারের ছেলে।

জানা যায়, ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর দুপুরে শিশু নাবিল দুপুরে স্কুল থেকে বাড়িতে ফেরার পথে আসামি সোহাগ অপহরণ করে চান্দ্রা বাজারে তার দোকানে নিয়ে যায়। দোকানে একটি কক্ষে শিশুকে আটকে রাখে মোবাইল ফোনে তার মায়ের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে ঐদিনই তাকে গলায় প্লাস্টিক পেঁচিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরবর্তীতে লাশ কাগজের কার্টুনে ঢুকিয়ে বাজারের গলির ময়লার ডাস্টবিনে লুকিয়ে রাখেন।

নাবিলকে খুঁজে না পেয়ে ঐদিনই তার বাবা মিজানুর রহমান ফরিদগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এরপর ২ অক্টোবর বাজারের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ডাস্টবিনে শিশু নাবিলের লাশ কার্টুন থেকে উদ্ধার করে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করেন। মুক্তিপণের টাকা দাবি করা মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে আসামি সোহাগকে একই বছরের ১৩ অক্টোবর গ্রেফতার করে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ। আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের আলামত উদ্ধার করা হয়।

ফরিদগঞ্জ থানার তৎকালীন এসআই মো. আখতার হোসেন ঘটনাটি তদন্ত করে ঐ বছর ২ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সাইয়েদুল ইসলাম বাবু জানান, মামলাটি প্রায় ১০ বছর চলাকালীন নয়জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে এ রায় দেন আদালত। তবে আসামি জামিনের পর থেকে পলাতক রয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতে এ রায় দেন বিচারক।

মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট ইকবাল-বিন-বাশার।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
ট্যাগ: চাঁদপুর
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!