সন্দেহের জেরে একই পরিবারের ৩ জনকে অমানসিক নির্যাতন
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ক্ষেতের ধান নষ্ট করার সন্দেহে বৃদ্ধ স্বামী ও তার বৃদ্ধা স্ত্রীসহ মেয়েকে অমানসিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে দরিদ্র ওই পরিবারটি হাসপাতালের শয্যায় শরীরে ব্যথা নিয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। অর্থ সঙ্কটে হচ্ছে না চিকিৎসাও।
এদিকে ওই পরিবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাদের ফাঁকা বাড়ি থেকে প্রতিপক্ষরা একটি গরুকে হত্যা করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
মঙ্গলবার সকালে টিয়াখালী ইউপির সাতআনী গ্রামে ভুক্তভোগীদের গোয়াল ঘরের সামনে গরুর নিথর দেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। এর আগে রোবাবার সন্ধ্যায় ওই গ্রামে বৃদ্ধ স্বামী ও তার বৃদ্ধা স্ত্রীসহ মেয়েকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।
কলাপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগীরা হলেন, আলতাফ গাজী (৬৮), তার স্ত্রী চন্দ্রভানু (৫৯) এবং মেয়ে রাবেয়া (৩৫)।
আহত আলতাফ গাজী জানান, রোবাবার সন্ধ্যায় মাঠ থেকে গরু নিয়ে ধানক্ষেতের ভেতর দিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন তিনি। এ সময় একই গ্রামের সালাম গাজী আইল দিয়ে যাওয়ার সময় ধানক্ষেত নষ্ট দেখে আলতাফের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। কিন্তু আলতাফ গাজী চলাচলের জায়গা তৈরি করেননি বলে জানালেও ক্ষিপ্ত হন সালাম। পরে বৃদ্ধ আলতাফের স্ত্রী ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতিবাদ করলে তাকে পিটুনি দেন সালাম ও তার ছেলে রুবেল। এ সময় বৃদ্ধা স্ত্রীকে নির্যাতনে বাধা দিলে তাকেও মারধর শুরু করেন বাবা-ছেলে।
এদিকে বাবা ও মায়ের চিৎকার শুনে তাদের বাঁচাতে মেয়ে রাবেয়া এগিয়ে গেলে তাকেও পিটুনি দেন তারা। পরে স্থানীয়রা গিয়ে একই পরিবারের তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মোশারেফ গাজী জানান, ধানক্ষেতের মধ্য দিয়ে চলাচলের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। কিন্তু তার কাছে জিজ্ঞেস না করেই সন্দেহের বসে স্বামী, স্ত্রী এবং মেয়েকে নির্যাতন করা হয়েছে।
একই গ্রামের প্রাক্তন শিক্ষক মোশারেফ মুন্সি বলেন, নির্দোষ বয়স্ক দুইজন মানুষকে সন্দেহের বসে নির্যাতন করা হয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগী পরিবারটির গোয়ালে ঢুকে প্রতিপক্ষরা গরুকে হত্যা করেছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে জানতে সালাম গাজীর বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে স্ত্রী লিলি বেগম জানান, আমার পরিবারের কেউ গরু হত্যা করেনি। কিন্তু তার ছেলে রুবেল একটু ভুল করেছে।
কলাপাড়া থানার ওসি জসিম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।