ঢাকা,  শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

‘ভালো দাঁত’ তুলে রোগীর হাতে ধরিয়ে দিলেন চিকিৎসক

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:৪১, ১২ ডিসেম্বর ২০২২
‘ভালো দাঁত’ তুলে রোগীর হাতে ধরিয়ে দিলেন চিকিৎসক
ফাইল ছবি

২৭ বছর বয়সী রুবিনা আক্তার। দাঁতের ব্যথায় ভুগছিলেন তিনি। পরে চিকিৎসার জন্য তার বোনের পরামর্শে যান ডা. রাকিবুলের কাছে। কিন্তু ঐ সময় ক্লিনিকে ছিলেন না ডা. রাকিবুল। পরে ১৫০০ টাকা ফিতে তার চিকিৎসা করান ইমরান হোসাইন নামে এক ভুয়া চিকিৎসক। তবে ব্যথাযুক্ত নষ্ট দাঁত রেখে ভালো দাঁত তুলে তার হাতে ধরিয়ে দেন চিকিৎসক। সেই দাঁত নিয়ে প্রতিকার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন রুবিনা। 

ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের পূবাইল থানার মাজুখানে। ঘটনায় দুদিন পর গত বুধবার ঐ ভুয়া চিকিৎসক ইমরান হোসাইনের বিরুদ্ধে পূবাইল থানায় অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী রুবিনা আক্তার। 

রুবিনা আক্তার টঙ্গী পূর্ব থানা ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিসিক ফকির মার্কেট এলাকার ফয়সাল ইসলামের স্ত্রী। 

রুবিনা আক্তার বলেন, আমার বোন ডা. রাকিবুল ইসলামের কাছে চিকিৎসা নিতেন। আমার বোনের পরামর্শে আমি ডা. রাকিবুলের কাছে গিয়েছিলাম। ঐ সময় ডা. রাকিবুল না থাকায় অভিযুক্ত ইমরান হোসাইন আমাকে বলেন, আমিই যথেষ্ট। এক সময় ইন্ডিয়ায় দাঁতের চিকিৎসা করেছি। উনার কথায় রাজি হই। পরে উনি  আমার ব্যথাযুক্ত নষ্ট দাঁত রেখে ভালো দাঁত তুলে হাতে ধরিয়ে দেন। দাঁত তোলার ফিও নেন ১৫০০ টাকা। এখন সেই দাঁত নিয়ে প্রতিকার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। আমি ঐ ভুয়া ডাক্তারের বিচার চাই।

তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কথিত ঐ চিকিৎসকের নেই কোনো সনদ। মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পাশ করেছেন। দুবারে পাশ করেছেন এইচএসসি। কিন্তু কোনোটার সনদ দেখাতে পারেননি তিনি। কোন ডেন্টাল কলেজে পড়েছেন সেটাও বলতে পারেননি। উনার ভিজিটিং কার্ড ও প্রেসক্রিপশনে রীতিমতো ডেন্টিস্ট ইমরান হোসাইন নাম ব্যবহার করছেন। রোগী প্রতি ভিজিট নেন পাঁচশ টাকা। সেইমতে, প্রেসক্রিপশনে উনার নামের পাশে টিক চিহ্ন দিয়ে রীতিমতো ওষুধ লিখে দিয়ে নিজে স্বাক্ষরও করছেন।

অভিযুক্ত ঐ চিকিৎসক ইমরান হোসাইন বলেন, আমি নিজেই মালিক। ট্রেড লাইসেন্স অন্য একজন মহিলা দাঁতের চিকিৎসকের নামে। তবে ভিজিটিং কার্ড ও সাইনবোর্ডে যেই ইমরান হোসাইন লেখা, সেটা আমি না। আমার ডেন্টাল কলেজ ক্যাম্পাসের বড় ভাইয়ের নাম। উনিই চিকিৎসক ইমরান। আমার নামের সঙ্গে মিল আছে, তাই চালিয়ে যাচ্ছি।

পূবাইল থানার এসআই সহিদ জানান, ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। বিষয়টি সমাধান করার জন্য ভুক্তভোগী ও কথিত দাঁতের চিকিৎসককে দেখা করতে বলেছি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!