পার্শ্ববর্তী জেলায় আত্মগোপনে আসামি, ধরতে লেগে গেল ১৩ বছর
হত্যা মামলায় পুলিশের হাতে ধরা পড়ে খাটেন জেল। প্রায় ছয় বছর পর জামিনে বের হয়ে সপরিবারে হন নিরুদ্দেশ। তার বিরুদ্ধে জারি হয় গ্রেফতারি পরোয়ানা। তবে পুলিশ তার কোনো হদিসই পাচ্ছিল না। অবশেষে সেই আসামি মাসুদ রানা ভোলা হলেন গ্রেফতার। তাও তাকে ধরতে ১৩ বছর লাগল পুলিশের।
৪৮ বছর বয়সী ভোলা বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়ন পরিষদের উথরাইল গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম রকিম উদ্দীন। তবে ১৩ বছর ধরে আত্মগোপনে বগুড়ার পাশের জেলা নওগাঁর সদরের বক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের যমুনা নদী পাড়ের হরিপুরে (বেড়িবাঁধ) সপরিবারে বসবাস করছিলেন তিনি। সেখানে ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতেন তিনি। অবশেষ পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার হয়ে এখন তিনি কারাগারে।
রোববার দুপুরে ভোলাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, শনিবার রাত ১১টার দিকে নওগাঁ সদরের হরিপুরে যমুনা নদীর পাড়ের বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
আদমদীঘি থানার ওসি জালাল উদ্দীন জানান, ২০০৩ সালে ভোলার বিরুদ্ধে থানায় হত্যা ও চুরির মামলা হয়। একই বছরেই হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রায় ছয় বছর জেলহাজতে থাকার পর ২০০৯ সালের শুরু দিকে জামিনে বের হন তিনি। এরপরই আত্মগোপনে চলে যান ভোলা। এরমধ্যে তিনি আদালতেও হাজিরা দেননি। ফলে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। তবে ভোলা পুরো পরিবারসহ ভোলা নওগাঁ সদরের যমুনার পাড়ে বসবাস শুরু করেন। সেখানে ভ্যান চালিয়ে সংসারের খরচ বহন করতেন তিনি। নিজের নাম-পরিচয় গোপন রেখে সেখানে বসবাস করছিলেন ভোলা।
তিনি আরো জানান, গোপন সংবাদে ভোলার অবস্থান জানা যায়। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।