ঢাকা,  শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

৫ ছেলের লাশ দেখে পাথর হয়ে বসে আছেন মা

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:৩৯, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২
৫ ছেলের লাশ দেখে পাথর হয়ে বসে আছেন মা
পাঁচ সন্তানের লাশ দেখে পাথর হয়ে রইলেন মা ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের চকরিয়ায় রাস্তা পারাপারের সময় পিকআপভ্যানের ধাক্কায় একই পরিবারের পাঁচ ভাই নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে চকরিয়া থানার ওসি ওসমান গণি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে চকরিয়া উপজেলার মালুমঘাটের ফকিরশাহ এলাকায় ভোর পাঁচটায় এ ঘটনা ঘটে।  

নিহতরা হলেন অনুপম শীল, নিরুপম শীল, দীপক শীল, চম্পক শীলও স্মরণ শীলের।

জানা গেছে, উপজেলার ডুলাহাজরা ইউপির মালুমঘাট খ্রিস্টান হাসপাতালের সামান্য উত্তরে রিংভং হাসিনাপাড়ায় বন বিভাগের খাস জায়গায় গড়ে উঠেছে জনবসতি। গত ২৮ জানুয়ারি বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান সুরেশ চন্দ্র শীল। হিন্দু ধর্মের সব নিয়ম মেনেই তাকে সৎকার করা হয় এবং সৎকার পরবর্তী সব নিয়ম পালন করতে শুরু করেন সুরেশ চন্দ্র শীলের ৬ ছেলে ও দুই মেয়ে। মৃত্যুর ১১ দিন পর হবে বাবার শ্রাদ্ধ। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ভোরে আট ভাই-বোন কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বসে কিছু আনুষ্ঠানিকতা সারছিলেন। ঠিক তখনই তাদের চাপা দেয় একটি গাড়ি। ঘটনাস্থলেই প্রাণ যায় চার ভাইয়ের। পরে এ ঘটনায় গুরুতর আহত অপর দুই ভাই ও দুই বোনকে উদ্ধার করে কাছের খ্রিস্টান হাসপাতালে নেয়া হলে সকাল ১১টার দিকে এক ভাইকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এই পাঁচ ভাইয়ের মরদেহ আনা হয়েছে বাড়ির উঠানে। এ সময় সন্তানদের মরদেহ দেখে পাথর হয়ে গেছেন ১১ দিন আগে স্বামী হারানো মানু বালা শীল।

সুরেশ চন্দ্র শীলের পাঁচ ছেলের একসঙ্গে এমন মৃত্যুতে হতবিহ্বল সবাই। এসবের মধ্যেই যেন পাথর হয়ে বসে আছেন অসহায় মা মানু বালা। তার চোখে পানি নেই। কোনো কথা বলছেন না কারও সঙ্গে, নড়াচড়াও করছেন না। পাঁচ সন্তানকে হারিয়ে এতটাই শোকাহত যে চোখের জলও আসছে না তার।

মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশের ওসি শেফায়েত হোসেন ও চকরিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ ওসমান গণি জানান, পরিবারের সদস্যদের ইচ্ছায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ সৎকারের প্রক্রিয়া চলছে। তাদের চাপা দেওয়া গাড়ি ও ড্রাইভার-হেলপারকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!