‘আমি পড়ব, বিয়ে দিলেই চরম সিদ্ধান্ত নেব’
লেখাপড়া করতে চাইলেও প্রবাসীর সঙ্গে ১৫ বছর বয়সী সামিয়া আক্তারের বিয়ে ঠিক করে পরিবার। বিয়ের পিঁড়িতে বসতে অব্যাহত রয়েছে চাপ। এতে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন সামিয়া। যেতে হয় হাসপাতালেও। এরপরও কমেনি বিয়ে দেওয়ার চাপ। শেষমেশ সামিয়া বলে দেন- ‘আমি পড়বো। আমাকে এখন বিয়ে দিলে চরম সিদ্ধান্ত নেবো। বাল্যবিয়ে দিলেই আত্মহত্যা করবো’।
ঘটনাটি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার। বৃহস্পতিবার বিষয়টি গোপন সংবাদে জানতে পারেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। তাৎক্ষণিক তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে জানিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেন। পরে শিক্ষা অফিসার ওই বাড়িতে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করতে বলেন ও পরিবারের সদস্যদের বুঝিয়ে আসেন। এ সময় বাল্যবিয়ে থেকে মুক্তি পেতে সহযোগিতা চান স্কুলছাত্রী সামিয়া।
আগামী রোববার সামিয়াকে নিয়ে অভিভাবকদের বিদ্যালয়ে আসতে বলেন শিক্ষা কর্মকর্তা। সামিয়া উপজেলার হাজির-হাট তোয়াহার স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্রী। তিনি চর ফলকন গ্রামের আবুল কালাম আজাদের মেয়ে।
.png)
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম জায়েদ বিল্লাহ বলেন, বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় আমি যাইনি। শিক্ষা কর্মকর্তা আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বাড়িতে গিয়ে ওই ছাত্রীর বিয়ে বন্ধ করতে বলেছেন। সামিয়া ভালো ছাত্রী। তার পড়ালেখার ইচ্ছে প্রবল। এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ইউএনওর নির্দেশে ছাত্রীর বাড়িতে যাওয়া হয়। সামিয়া পড়ালেখা করতে চায়। পরিবারের লোকজনকে যথেষ্ট সতর্ক করা হয়েছে। রোববার তার মা-বাবাকে বিদ্যালয়ে আসতে বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ওই ছাত্রীর পড়ালেখা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।