দুই তরুণের সততায় হারানো টাকা ফেরত পেলেন শিক্ষক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাস্তায় পড়ে থাকা চার হাজার টাকা পেয়ে মালিককে ফেরত দিয়েছেন দুই তরুণ। গত মঙ্গলবার (৬ জুলাই) বিকেলে তারা টাকার মালিক জেলা শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক দেবেন্দ্র চন্দ্র রায়কে ফেরত দেন। দুই তরুণের সততা ও নিষ্ঠা দেখে খুশি হন ওই শিক্ষক।
দুই তরুণ হলেন, জেলা শহরের পূর্ব মেড্ডার পোদ্দার বাড়ি সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা নাইম সরকার ও রিমন রহমান। তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের স্নাতক পাস কোর্সের (ডিগ্রি) তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। ওই শিক্ষক শিক্ষক দেবেন্দ্র চন্দ্র রায় পূর্ব মেড্ডার এলাকার বাসিন্দা।
শিক্ষকের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গ্যাস বিল দিতে ব্যাংকের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। সে সময় গ্যাস বিলের জন্য তার পকেটে চার হাজার টাকা ছিল। ব্যাংকে পৌঁছে তিনি চার হাজার টাকা পকেটে পাননি। পরে তিনি মন খারাপ করে বাড়ি চলে যান। দুপুরে ওই দুই তরুণ শিক্ষকের বাসায় গিয়ে টাকার বিষয়ে জানতে চান। শিক্ষক দেবেন্দ্র চন্দ্র রায় চারটি এক হাজার টাকা নোট হারানোর কথা তাদের জানান। দুই তরুণ টাকার জন্য শিক্ষককে দুশ্চিন্তা না করতে বলেন। তারা টাকা পেয়েছেন বলে দেবেন্দ্র চন্দ্রকে জানান। পরে বিকেল ৪টার দিকে দুই তরুণ বাসায় গিয়ে শিক্ষকের টাকা ফেরত দেন।
দুই তরুণ নাইম সরকার ও রিমন রহমান বলেন, ওই দিন বেলা ১২টার দিকে পূর্ব মেড্ডা এলাকার রাস্তায় চার হাজার টাকা পড়ে থাকতে দেখি। কেউ হয়তো হারিয়ে ফেলেছে বা কারো পকেট থেকে পড়েছে ভেবে টাকা তুলে অনেককে জিজ্ঞেস করেছি। দুপুরের দেবেন্দ্র স্যার টাকা হারিয়েছে বলে এক দোকানদারের কাছে শুনেছি। পরে স্যারের বাসায় গিয়ে বিষয়টি জেনেছি। আর বিকেলে গিয়ে টাকা স্যারের হাতে দিয়েছি।
শিক্ষক দেবেন্দ্র চন্দ্র রায় বলেন, হারানো টাকার অঙ্কটা খুব কম। কিন্তু করোনার এই সময়ে অবসরপ্রাপ্ত এক শিক্ষকের জন্য চার হাজার টাকা অনেক বেশি। টাকা না পেয়ে মনটা বেশ খারাপ ছিল। বিষয়টি এলাকার অনেককে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে রাস্তায় কেউ টাকা পেয়েছে কিনা। এলাকার একটা দোকানির কাছে টাকা হারানোর বিষয়টি দুই তরুণ জানতে পারে।
পরে বিকেলে এসে তারা টাকা আমার হাতে দিয়ে যান। এখনো ভালো মানুষ পৃথিবীতে আছে। তাদের সততা ও নিষ্ঠা আমাকে মুগ্ধ করেছে। তাদের অনেক ধন্যবাদ।