চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে আহত অজ্ঞাত শিশুর পাশে ঝাড়ুদার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হওয়া অজ্ঞাত এক শিশুর অভিভাবক হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন ঝাড়ুদার উজ্জ্বল।
গুরুতর আহত হয়ে একমাস ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ওই শিশুটি। আহত ওই শিশুর পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ঝাড়ুদার উজ্জ্বল বাড়ি থেকে খিচুড়ি, সেমাই, সুজি, দুধ, বেলের সরবত নিয়ে নিজেই খাওয়ানোর কাজটা করছেন। পায়খানা পরিষ্কার থেকে শুরু করে গোসল করানো, যাবতীয় ওষুধপত্র খাওয়ানোর কাজটাও করছেন তিনি।
.png)
উজ্জ্বল বলেন, অজ্ঞাত শিশুটি মাথায় আঘাত পেয়ে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছিল। ওইদিন থেকে হাসপাতালে সার্জারি চিকিৎসক, নার্সদের চিকিৎসা সেবায় আলহামদুলিল্লাহ শিশুটির শারীরিক অবস্থা অনেক উন্নতি হয়েছে। এখন ওই শিশুটি চোখ মেলতে পারে। মাঝেমধ্যে কথা বলার চেষ্টাও করছে। ওই শিশুর মুখে খাবার দিলে তাও গিলতে পারে। যেহেতু ওই শিশুর কেউ নেই তাই ঢাকা না নিয়ে আমরাই দিবো তার চিকিৎসা।
হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শওকত হোসেন জানান, যখন শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি হয়, তখন থেকেই শিশুটি অচেতন ছিল। এখন শিশুটির শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে। ওই শিশুর সকল ওষুধপত্র হাসপাতাল থেকে দেয়া হচ্ছে।
গত ৩ জানুয়ারি স্থানীয় এক ব্যক্তি দুপুর পৌনে দুইটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট রেলপথের আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বৈকণ্ঠপুর এলাকার রেললাইনের পাশ থেকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা একটি শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে তিনি আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছিলেন। তার মাথায়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত থাকায় সেখানে শারীরিক অবস্থা খারাপ দেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছিল। এখনো তার পরিবারকে শনাক্ত করা যায়নি।