শেরপুরে খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে বন্যহাতি
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় খাবারের সন্ধানে গারো পাহাড় সংলগ্ন লোকালয়ে নেমে এসেছে একদল বন্যহাতি। হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে মশাল জ্বালিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ১৫টি হাতি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। বুধবার দুপুরে হাতির দলটি ওই উপজেলার তাওয়াকুচা এলাকায় বন বিভাগের ‘সুফল’ প্রকল্প নামে একটি বাগানে অবস্থান করছিল।
বন বিভাগ ও স্থানীয়রা জানায়, শেরপুরের গারো পাহাড়ে বর্তমানে অর্ধশতাধিক হাতি রয়েছে। হাতির দলটি খাবারের সন্ধানে পাহাড়ে ঘুরে বেড়ায়। মাঝেমধ্যেই হাতিগুলো পাহাড় থেকে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এদের কারণে পাকা ফসল ঠিক মতো ঘরে তোলা যায় না। ধান ও কাঁঠাল পাকার সময় হাতির আক্রমণ বেড়ে যায়। এ পর্যন্ত হাতির আক্রমণে অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত ও তিন শতাধিক আহত হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা পনির হোসেন বলেন, হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচতে গ্রামে গ্রামে ২০-৩০ জনের দলে বিভক্ত হয়ে পাহারা বসানো হয়েছে। বাঁশের মাথায় কাপড় বেঁধে কেরোসিন দিয়ে মশাল জ্বালিয়ে পাহারা দিতে হচ্ছে।
কাংশা ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রতি রাতেই গ্রামে হানা দিচ্ছে বন্য হাতির দল। ক্ষেতের পাকা ধান খেয়ে ফেলছে। গ্রামবাসীর চোখে ঘুম নেই। রাত কাটছে আতঙ্কে।
বন বিভাগের তাওয়াকুচা বিট কর্মকর্তা মো. মোখরুল ইসলাম আকন্দ বলেন, তাওয়াকুচা বিটের ‘সুফল’ প্রকল্পের প্রায় সাত হাজার চাপালিশ চারা নষ্ট করেছে বন্যহাতির দল।
ঝিনাইগাতীর ইউএনও রুবেল মাহমুদ বলেন, দূর্ঘটনা এড়াতে হাতির দলকে নিরাপদে পাহাড়ে ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।