ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

বোনকে মাছের ভর্তা দেয়ায় বড় বোনের প্রতি স্বামীর অকল্পনীয় কাণ্ড

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:২২, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
বোনকে মাছের ভর্তা দেয়ায় বড় বোনের প্রতি স্বামীর অকল্পনীয় কাণ্ড
বোনকে মাছের ভর্তা দেয়ায় স্বামীর অকল্পনীয় কাণ্ড।

ছোট বোন লিপি আক্তারকে মাছের ভর্তা খেতে দেয়ায় নিজের মৃত্যুর কথা কল্পনাও করেননি বড় বোন হ্যাপী আক্তার। কিন্তু কল্পনাকে হার মানিয়ে স্বামীর নির্যাতনে লাশ হয়ে গেলেন হ্যাপী। এরইমধ্যে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার রাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুরের সহনাটি ইউপির পাছার গ্রামে এমন ঘটনা ঘটে। নিহত হ্যাপী আক্তার ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার কাঁকনহাটি গ্রামের বাচ্চু মিয়ার মেয়ে। তিনি নয় মাসের এক ছেলের জননী।

স্থানীয়রা জানান, গত ৫ বছর আগে পাছার গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে শহীদুল ইসলামের সঙ্গে হ্যাপী আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের বিয়ের সাতদিনের মাথায় শহীদুলের শ্যালিকা লিপি আক্তারকে বিয়ে করে বসেন তার ভাই জায়েদ উল্লাহ। এ নিয়ে পরিবারে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একে একে সময় পার হলে হ্যাপীর ওপর স্বামী নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এক পর্যায়ে দেবর জায়েদ উল্লাহও ভাবি হ্যাপীকে নির্যাতন শুরু করে।

স্বজনরা জানান, সোমবার রাতে রান্না শেষে ছোট বোন লিপিকে খাওয়ার জন্য একটু মাছের ভর্তা দেয় হ্যাপী। তা দেখে হ্যাপীর ওপর মারধর শুরু করে স্বামী। এক পর্যায়ে লিপি বোনকে রক্ষা করতে গেলেও তাকে পাশের একটি কক্ষে আটকে হ্যাপীকে মারধর করা হয়।

হ্যাপী অজ্ঞান হলে স্থানীয় চিকিৎসকের মাধ্যমে স্যালাইন দিয়ে চেতনা ফেরানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু রাত গভীর হলে চিন্তায় পড়ে সবাই। রাত ১ টায় ঈশ্বরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে পথিমধ্যে হ্যাপীর মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে নিহত হ্যাপীর বাড়িতে গেলে প্রত্যক্ষদর্শী বোন লিপি আক্তার বলেন, সংসারের নানা বিষয়ে বোনের ওপর অত্যাচার চালাতেন বোন জামাই শহীদুল। সোমবার রাতে একটু মাছের ভর্তা দেয়ার অজুহাতে বোনকে মারধর শুরু করেন তিনি। বোন মারধর থেকে রক্ষা করতে গেলে আমাকে পাশের কক্ষে আটকে মারধর চালিয়ে যান শহীদুল। পরে বোনকে ইঁদুরের বিষ খাওয়ানো হয়।

নিহতের সুরতহাল করেছেন গৗরীপুর থানার এসআই কার্তিক চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, নিহতের মাথায় সামান্য ফুলা চি‎‎হ্ন রয়েছে। এছাড়া ডান হাতেও ফুলা রয়েছে। এছাড়া অন্য কোনো আঘাতের চি‎হ্ন পাওয়া যায়নি।

গৌরীপুর থানার ওসি মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, ঘটনার পর থেকে হ্যাপীর স্বামী ও পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী পারিবারিক কলহে নির্যাতনের এক পর্যায়ে বিষপানে নারীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে লাশ মর্গে পাঠানো হচ্ছে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকেএ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!